জন্মহার বাড়াতে এই প্রথমবারের মতো আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন সরকার। বাবা-মায়েদের তাদের তিন বছরের কম বয়সী প্রত্যেক সন্তানের জন্য বছরে ১৫০০ ডলার ভাতা প্রদান করা হবে। দেশব্যাপী ভর্তুকির অংশ হিসেবে এ অর্থ দেওয়া হবে। খবর বিবিসির।
১৯৭৯ সালে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এক সন্তান নীতি গ্রহণ করে চীন। প্রায় এক দশক আগে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি তাদের বিতর্কিত এক সন্তান নীতি বাতিল করে। তারপরেও দেশটিতে জন্মহার কমছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই প্রকল্প প্রায় দুই কোটি পরিবারকে সন্তান লালন-পালনের খরচ বহন করতে সাহায্য করবে।
দেশটির বেশ কয়েকটি প্রদেশে জন্মহার বাড়াতে উৎসাহিত করতে অর্থ সহায়তা দেওয়ার এ পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা চালু করেছে। সোমবার ঘোষিত এই প্রকল্পে অভিভাবকদের প্রত্যেক সন্তানের জন্য মোট ১০ হাজার ৮০০ ইউয়ান পর্যন্ত অর্থ প্রদান করা হবে।
বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৫ সালের জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে কার্যকর করা হয়েছে এই প্রকল্প। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া শিশুদের পরিবারগুলোও আংশিক ভর্তুকির জন্য আবেদন করতে পারবে।
গত মার্চ মাসে, চীনের উত্তরাঞ্চলের একটি শহর হোহোট যেসব দম্পতির তিনটি সন্তান রয়েছে, তাদেরকে প্রত্যেক শিশুর জন্য এক লাখ ইউয়ান পর্যন্ত অর্থ প্রদান শুরু করে।
বেইজিংয়ের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত শহর শেনইয়াংয়ে তিন বছরের কম বয়সী তৃতীয় সন্তানের জন্য প্রতি মাসে শিশুর বাবা-মাকে ৫০০ ইউয়ান দেওয়া হবে।
গত সপ্তাহে, বেইজিং স্থানীয় সরকারগুলোকে বিনামূল্যে প্রাক-বিদ্যালয় শিক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।
চীন-ভিত্তিক ইউওয়া পপুলেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে এই দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশগুলোর মধ্যে একটি।
গবেষণায় দেখা গেছে, চীনে কোন সন্তানের ১৭ বছর বয়স লালন-পালন করতে বাবা-মাকে গড়ে ৭৫ হাজার ৭০০ ডলার খরচ করতে হয়।
গত জানুয়ারিতে, সরকারি এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে,২০২৪ সালে টানা তৃতীয় বছরের মতো চীনের জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো হিসাব অনুযায়, ২০২৪ সালে চীনে ৯ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন শিশুর জন্ম রেকর্ড করা হয়েছে।
এটি আগের বছরের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেলেও দেশের সামগ্রিক জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
দেশটির ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হচ্ছে। যা বেইজিংয়ের জনসংখ্যা নিয়ে উদ্বেগকে আরো বাড়িয়ে তুলছে।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


