ইসরাইলি বিমানবন্দরে গিয়ে বিমানে ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল পাইলট আল-হাম্মামির

ইসরাইলি বিমানবন্দরে গিয়ে বিমানে ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল পাইলট আল-হাম্মামির
ছবি: সংগৃহীত।

ফ্লাইদুবাইয়ের ইসরাইলগামী বিমানের কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামির ইসরাইলের বিমানবন্দরে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করাহয়েছে। তবে তিনি তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। না হলে, অন্যরকম কিছু অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে পারত বিশ্ব।

বিজ্ঞাপন

ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হেফাজতে রয়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষই ঘটনাটির তদন্ত করছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, তদন্তকারীদের কাছে হামাম তার পরিকল্পনার বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে হত্যা করে বিমানটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

হাম্মামির দাবি অনুযায়ী, প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর। সেখানে পৌঁছে অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটাতে পারলে তার পরিকল্পনা সফল হতো। সেটি সম্ভব না হলে তেল আবিবের কোনো উঁচু ভবনে বিমানটি আছড়ে ফেলার পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি জর্ডনের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হামাম পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা শুরু করেন। তার আগে পর্যন্ত তিনি কাউকে কিছু বুঝতে দেননি। ধীরে অত্যন্ত চৌকসভাবে একান্তভাবেই পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, জর্ডান হয়ে বিমানটি যখন ইসরাইলে প্রবেশ করে, তখনেই হামিম পরিকল্পনা অনুযায়ী ককপিটের ক্যাপ্টেন স্মিতকে আঘাত করেন।

স্মিতকে হত্যার পর বিমানটিকে স্বাভাবিকভাবে উড়িয়ে তেল আবিব পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। এর মাধ্যমে অবতরণের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি সহজ হবে বলে তিনি ভেবেছিলেন। বিমানবন্দরে অন্য কোনো বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটানো সম্ভব না হলে তেল আবিবের কোনো উঁচু ভবনে বিমানটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা ছিল। এমনকি জর্ডনে থাকা কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনায় রেখেছিলেন তিনি।

তবে আহত ক্যাপ্টেন স্মিত হামিমের পরিকল্পনা ভেস্তে দেন। স্মিথ যখন যে-কোনোভাবে ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হাম্মামিকে আটক করেন। আর এ-সময় বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলট তখন নিয়ন্ত্রণ নেন । তবে তারপরেও হামাম্মি শেষবারের মতো বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে সংবাদমাধ্যমগুলোতে দাবি করা হয়েছে। সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে হাম্মামি বিমানটি ক্রাশ করতে চেয়েছিলেন। তিনি অটোপাইলট বন্ধ করার পাশাপাশি দুই ইঞ্জিনও বন্ধ করে দেন। এতে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। তবে বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলট দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কারণে বিমানটি আর ক্রাশ হয়নি।

তবে শেষ পর্যন্ত বিমানটি যদি হাম্মামির পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি বেন গুরিয়ান বিমানবন্দর কিংবা অন্য কোনো ইসরাইলি ভবনে ক্রাশ করত, তবে ইতিহাস এমনকিছুর সাক্ষী হতো যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

সূত্র: আনন্দবাজার

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন