আল-আকসায় ঢুকে জাতীয় সংগীত ও পতাকা প্রদর্শন করল ইসরাইলিরা

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

আল-আকসায় ঢুকে জাতীয় সংগীত ও পতাকা প্রদর্শন করল ইসরাইলিরা
ছবি : আরব নিউজ

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ইসরাইলের জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত গেয়েছে একদল উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরাইলি।

গত রোববার এই ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াফ-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি পুলিশের কড়া পাহারায় অন্তত ১৯৯ জন ইসরাইলি এই অনুপ্রবেশে অংশ নেয়। পবিত্র এই স্থাপনাটির রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এই সংস্থাটি।

অনুপ্রবেশকারীরা আল-আকসা প্রাঙ্গণে কেবল পতাকা প্রদর্শন এবং জাতীয় সংগীতই গায়নি, বরং তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে তালমুদীয় (ইহুদি ধর্মীয়) রীতি অনুযায়ী প্রার্থনা করতেও দেখা গেছে।

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র স্থান। কয়েক দশক ধরে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত 'স্থিতাবস্থা' চুক্তির মাধ্যমে এটি পরিচালিত হয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক এই নিয়ম অনুযায়ী, এই মসজিদ প্রাঙ্গণটি কেবল মুসলিমদের ইবাদতের জন্য নির্ধারিত।

চুক্তি অনুযায়ী, এই কমপ্লেক্সের ভেতরে কেবল মুসলিমদের প্রার্থনার অনুমতি থাকলেও এর প্রবেশাধিকার, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো জর্ডানের তত্ত্বাবধানে ইসলামিক ওয়াফ-এর কর্তৃপক্ষের অধীনে ন্যস্ত।

ইসরাইলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এই স্থিতাবস্থা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সহায়তায় প্রায় প্রতিদিনই উগ্রপন্থিরা সেখানে অনুপ্রবেশ করছে এবং প্রাঙ্গণের ভেতরে নাচ-গান, প্রার্থনা ও ইসরিইলি পতাকা প্রদর্শন করছে।

জেরুজালেম গভর্নরেটের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক ওমর রাজউব আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, ‘আল-আকসা মসজিদের চত্বরে ইসরাইলি পতাকা উত্তোলন এবং উসকানিমূলক আচার-অনুষ্ঠান পালন করা চরমপন্থি দখলদার সরকারের নেতৃত্বাধীন একটি নিয়মতান্ত্রিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সরকারি নীতির অংশ।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই ধরনের কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য হলো অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে জোরপূর্বক নতুন বাস্তবতা তৈরি করা এবং আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতাবস্থাকে ক্ষুণ্ন করা।’

রাজউব সতর্ক করে বলেন, ইসরাইলি সেটলারদের এসব কর্মকাণ্ড এই শহরটিকে ইহুদিকরণ এবং এর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পরিচয় মুছে ফেলার একটি চলমান ঔপনিবেশিক প্রকল্পের অংশ। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সুরক্ষায় পরিচালিত এই ধরনের অনুপ্রবেশ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এই উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য ইসরাইল সরকারই সম্পূর্ণ দায়ী।

রোববার সেটলাররা যখন সেখানে তাণ্ডব চালাচ্ছিল, তখন ইসরাইলি পুলিশ আল-আকসায় প্রবেশ করতে চাওয়া ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি জানিয়েছেন, মসজিদের বাইরের ফটকে তাদের পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

জর্ডানের রাজার পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সংস্থা ওয়াফ জানিয়েছে, সেটলাররা ইচ্ছে করেই 'ডোম অব দ্য রক' (কুব্বাত আস-সাখরা)-এর সামনেসহ মসজিদের ভেতরের চত্বরে ছবি তুলে সেখানকার রক্ষী ও মুসল্লিদের উসকানি দিয়েছে।

জেরুজালেমসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কয়েক দশক ধরে আল-আকসা মসজিদে ইসরাইলি পতাকা প্রদর্শন এবং ইহুদিদের প্রার্থনা নিষিদ্ধ করে রেখেছিল ইসরাইল। তবে আল-আকসা মসজিদ ধ্বংসের পক্ষে সোচ্চার থাকা উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এই বিধিনিষেধের বিরোধিতা করে আসছিল। ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর-ডানপন্থি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই পবিত্র স্থানে ইহুদিদের প্রার্থনার অনুমতি দেওয়ার হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...