ইসরাইলি অবরোধে গাজায় মৃত্যু ঝুঁকিতে এক লাখের বেশি শিশু

ইসরাইলি অবরোধে গাজায় মৃত্যু ঝুঁকিতে এক লাখের বেশি শিশু

গাজার একটি হাসপাতালে তার পাঁচ মাস বয়সী বাচ্চার লাশ কোলে নিয়ে কাঁদছিলেন এক মা। অপুষ্টিতে মারা যায় জয়নব আবু হালিব। তার ওজন হয়েছিল মাত্র দুই কেজি। গত ২৪ ঘন্টায় ক্ষুধার্ত অবস্থায় মারা যাওয়া অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনির একজন সে।

এক প্রতিবেদনে মিডল ইস্ট আই জানায়, হতাশ মা এই সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, তিনি কয়েক মাস ধরে তাদের গাজা থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করে আসছিলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও প্রস্তুত করে রেখেছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমাদের কথা কেউ শুনছে না।’

তিনি বলেন, অপুষ্টি, শিশু খাদ্যের অভাব এবং গাজায় প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেওয়া; এই সবকিছুই তার মেয়ের বেঁচে থাকাকে অসম্ভব করে তুলেছিল। শেষ পর্যন্ত তার মেয়েটা মারা গেলো।

জয়নব সুস্থভাবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, কোন অসুস্থতা বা বিকৃতি ছিল না তার। তার একমাত্র প্রয়োজন ছিল শিশু খাবারের নিয়মিত সরবরাহ।

শিশুদের আসন্ন মৃত্যু:

চলমান ইসরাইলি অবরোধের কারণে গাজায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। জয়নবসহ অনেক মা অপুষ্টিতে ভুগছেন এবং তাদের সন্তানদের বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না।

কয়েক সপ্তাহ ধরে, অবরুদ্ধ উপত্যকায় চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন, যদি খাদ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ জরুরিভাবে গাজায় পৌঁছে না দেওয়া হয়, তবে সেখানে ‘বিপর্যয়কর’ পরিস্থিতি তৈরি হবে।

শনিবার গাজার হামাস সরকার একটি কঠোর সতর্কতা জারি করে বলেছে, যদি অবিলম্বে শিশু খাদ্য সরবরাহ না করা হয় তবে দুই বছরের কম বয়সী এক লাখের বেশি শিশু আসন্ন মৃত্যুর মুখোমুখি হবে। এদের মধ্যে ৪০ হাজার নবজাতক।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘আমরা এমন একটি ইচ্ছাকৃত গণহত্যার মুখোমুখি হচ্ছি যা ধীরে ধীরে শিশুদের ওপর সংঘটিত হচ্ছে। মায়েরা কয়েকদিন ধরে তাদের বাচ্চাদের শিশুখাদ্যের পরিবর্তে পানি খাওয়াচ্ছেন।’

একে ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহারে রেখে গাজাবাসীকে হত্যা করতে চাইছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে আবার নতুন ইসরাইলি অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৮৫ জনের বেশি শিশুসহ কমপক্ষে ১২৭ জন ফিলিস্তিনি অনাহারে মারা গেছেন।

আমাদের ডাকে কেউ সাড়া দেয়নি:

আবু মোহসেনের সন্তানও অনাহারে প্রাণ হারিয়েছে। তার ছেলে আবেদ আল-সালামকে ৭০ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ডাক্তাররা তার লিভারের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছিলেন।

মোহসেন জানান, ‘আমরা ৭০ দিন ধরে সকলের কাছে গাজা ছেড়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু কোন উত্তর পাইনি। আমাদের সন্তানরা এভাবেই মারা যায়।’

চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিতে সব নথি প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও অবরোধের কারণে কারো পক্ষে চলে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

মোহসেন আরো বলেন, ‘গাজার সবাই কষ্ট পাচ্ছে। সবাই অনাহার এবং মৃত্যু সহ্য করছি।’

জয়নবের মা বলেন, ‘বিশ্বের প্রতি আমার বার্তা, যারা শুরুতে আমাদের কথা শোনেনি এবং এখনো আমাদের কথা শুনবে না। বিশেষ করে আরব দেশগুলো কিছুই করছে না।

তিনি আরো বলেন, ‘পশ্চিমারা ফোন করেছিল এবং সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তোমরা আরবরা, তোমরা কিছুই করনি।’

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন