যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট মনোনয়ন জিতেছেন ফিলিস্তিন-পন্থি প্রগতিশীল নেতা ও চিকিৎসক আবদুল এল-সাইয়েদ। বুধবার ঘোষিত ফলাফলে তিনি কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্সকে পরাজিত করেন। মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল ও আলোচিত প্রাইমারি নির্বাচনের একটি ছিল এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ৬৫ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, যার বড় অংশই ব্যয় করা হয়েছে এল-সাইয়েদের জয় ঠেকাতে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গণনা হওয়া ৯২ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটের মধ্যে এল-সাইয়েদ পান ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং স্টিভেন্স পান ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট।
এই বিজয়কে ইসরাইলপন্থি লবিং গ্রুপ, বিশেষ করে আইপ্যাকের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইপ্যাক স্টিভেন্সকে সমর্থন দিতে এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অন্যতম স্পষ্টভাষী ফিলিস্তিন-পন্থি প্রার্থী এল-সাইয়েদকে পরাজিত করতে ৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল । জয়ের পর এল-সায়েদকে সমর্থন জানিয়েছেন স্টেট লেজিসলেটর ম্যালোরি ম্যাকমোরো, যিনি আগে এই রেস থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন ।
বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর ৪১ বছর বয়সী এই চিকিৎসক ও নেতা ডেট্রয়েটে তার সমর্থকদের বলেন যে সামনে আরও বড় লড়াই বাকি আছে । আগামী নভেম্বরে তিনি সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। এই নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করতে পারে । এল-সায়েদ সরাসরি রজার্সকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মাইক, আমরা তোমার জন্য আসছি’
এল-সাইয়েদের এই বিজয় প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট এবং আরব আমেরিকান ভোটারদের জন্য একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত। গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের বিরোধিতা এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ঐতিহ্যগত ইসরাইল-পন্থি অবস্থানের প্রতি অসন্তোষ থেকে তারা এল-সায়েদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন । এল-সায়েদ প্রচারণার সময় অভিযোগ করেছিলেন যে বাইরের অর্থ দিয়ে নির্বাচন ‘কিনে নেওয়ার’ চেষ্টা করা হচ্ছে ।
নির্বাচনি প্রচারে এল-সাইয়েদ গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা । তিনি দাবি করেন যে ইসরাইলকে দেওয়া বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধ করে সেই অর্থ আমেরিকার স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, শিক্ষা এবং অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করা উচিত । তার এই অবস্থান মিশিগানের সেইসব ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে যারা গাজা যুদ্ধের প্রতি জোরালো সমর্থনের কারণে জো বাইডেনের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়েছিলেন ।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


