ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনী রাজনীতিতে না গিয়ে আপাতত একটি চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন বা প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। বুধবার মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে সিজেপির কোর টিমের বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের এমনটাই জানিয়েছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিজেপি-র এই সভায় সংবাদমাধ্যম এবং বিচারবিভাগের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের কমে আসা আস্থা নিয়ে আলোচনা করা হবে । এছাড়া, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোও তাদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে । দলের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন যে, প্রখ্যাত অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক তাদের মেন্টর বা পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করবেন
তিনি আরো বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে সিজেপির সাম্প্রতিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন। পাশাপাশি আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের আইনি ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার কাজও চলছে।
সিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, বৈঠকে সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর্যালোচনা, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন বিস্তার এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
দীপকে বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলন দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এর ফলে সংগঠনের দায়িত্ব ও মানুষের প্রত্যাশা দুটোই বেড়েছে।
দীপকে এখনই নির্বাচনী রাজনীতিতে নামার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন । তিনি মনে করেন, ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ‘খুবই খারাপ’ এবং তার মূল লক্ষ্য হলো একটি তৃণমূল পর্যায়ের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা । তিনি আরো বলেন যে, বিচারবিভাগ, রাজনীতি, গণমাধ্যম এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর থেকে মানুষ আস্থা হারিয়েছে, তাই এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি জনচাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রয়োজন।
এদিকে ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দীপকে। তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই ঝাড়খণ্ডে যাব, তাদের পাশে দাঁড়াব এবং তাদের সব দাবিকে সমর্থন করব।”
তবে সিজেপি নির্বাচনি রাজনীতিতে প্রবেশ করবে কি না—এমন প্রশ্নে দীপকে বলেন, গণমাধ্যম এ বিষয়ে সংগঠনের চেয়ে বেশি আগ্রহী। তিনি জানান, আপাতত রাজনৈতিক দল গঠনের কোনো পরিকল্পনা নেই।
এদিকে, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল ১০০ জন সমর্থক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে পদযাত্রা করেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে সরকার ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি (ই২০) প্রচার করছে এবং এর পেছনে একটি ‘গোপন উদ্দেশ্য’ রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জুন মাসে ভারতে ফেরেন অভিজিৎ দীপকে। ওই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণরা অংশ নেয়। পরে আন্দোলন বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে, যদিও কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয় এবং পুলিশের অভিযানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় মোদি সরকার।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


