মিয়ামিতে সৌদি বিনিয়োগ ফোরামে ইরান যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কিউবাকে পরবর্তী টার্গেট বলে হুঁশিয়ারি দিলেন। শুক্রবার মিয়ামিতে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়ের কথা তুলে ধরেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কিউবাই হবে পরবর্তী লক্ষ্য।
ট্রাম্পের বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের যুদ্ধে তাকে সাহায্য না করার জন্য তিনি ন্যাটোর কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি ইরানকে লক্ষ্য করে বলেন, ৪৭ বছর ধরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের উৎপীড়ক হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু তারা আর উৎপীড়ক নয়; তারা এখন পলাতক।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত না করত, তাহলে দেশটি দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা দেশটির কর্মসূচিকে কয়েক বছর পিছিয়ে দিয়েছে।
সৌদি আরবের উপস্থিত প্রধানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা এটা আপনাদের ওপর, ইসরাইলের ওপর এবং অন্য সবার ওপর ব্যবহার করত।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, কিছুদিন আগে আমরা একসঙ্গে ছিলাম এবং তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, জানেন, এটা আশ্চর্যজনক যে এক বছর আগে আপনারা একটি মৃতপ্রায় দেশ ছিলেন; আর এখন আপনারা বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত দেশ। তিনি ভাবেননি যে এমনটা ঘটবে।
প্রেসিডেন্ট কিউবার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, এরপর কিউবার পালা।
ট্রাম্প কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেলকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসতে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু এ ধরনের চুক্তির সম্ভাব্য শর্তাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি।
এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে কিউবার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্মান তিনি পাবেন এবং তিনি এর সঙ্গে যা খুশি তাই করতে পারবেন। ট্রাম্প তার বেশির ভাগ সময় ব্যয় করেছেন ইরানে মার্কিন-ইসরাইলের যৌথ মিশন এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা নির্মূল করার বিষয়ে কথা বলতে।
এই ফোরামটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন যুদ্ধের প্রভাব, বিশেষ করে জ্বালানি খাতের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে অর্থনৈতিক বাজারগুলো অস্থিতিশীল রয়েছে। সূত্র: দ্য হিল
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

