একটি নতুন জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমেরিকানই চান যে কংগ্রেস অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করুক।
জরিপটি ৭৯০ জন নিবন্ধিত ভোটারের ওপর পরিচালিত হয়। এতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫২ শতাংশ ট্রাম্পের অভিশংসনের পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে ৪০ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। জরিপে আরো উঠে এসেছে যে, প্রতি সাতজন রিপাবলিকানের মধ্যে একজন রয়েছেন যিনি ট্রাম্পের অপসারণ প্রক্রিয়া সমর্থন করছেন।
নিউইয়র্ক ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজউইকে এসেছে, এই জরিপের পৃষ্ঠপোষক ছিল দুটি প্রগতিশীল অধিকারকর্মী গোষ্ঠী। যার একটি হচ্ছে ‘ইমপিচ ট্রাম্প. এগেইন.’ আর অন্যটি হচ্ছে ‘ফ্রি স্পিচ ফর পিপল’।
কেন এই জরিপটি গুরুত্বপূর্ণ
জরিপের ফলাফল রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস) দুইবার অভিশংসিত হলেও, সিনেট উভয়বারই তাকে দোষী সাব্যস্ত করার প্রস্তাব নাকচ করে। পরবর্তীতে ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল দাঙ্গায় উসকানির অভিযোগে তার দ্বিতীয় অভিশংসনে ৫৭ জন সিনেটর, যার মধ্যে সাতজন রিপাবলিকানও ছিলেন, দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দেন। তারপরেও এ যাত্রায় বেঁচে যান ট্রাম্প কারণ প্রস্তাবিত ভোট দুই-তৃতীয়াংশের প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করতে পারেনি।
সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের দাবি আরো জোরালো হয়েছে। এই সংঘাত ক্যাপিটল হিল ও ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে নতুন রূপ দিয়েছে।
যে বিষয়টি জানা থাকা প্রয়োজন
জরিপটি পরিচালনা করেন ‘ফ্রি স্পিচ ফর পিপল’-এর প্রেসিডেন্ট ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা জন বনিফাজ, প্রবীণ জরিপকারী সেলিন্ডা লেকের প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায়। জরিপের ত্রুটির মাত্রা ছিল ৩.৯ শতাংশ।
৬ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে বনিফাজ বলেন, “প্রেসিডেন্ট মেয়াদের এত প্রারম্ভিক পর্যায়ে এ ধরনের ফলাফল নজিরবিহীন।” তিনি আরো উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জনমত রিচার্ড নিক্সনের সময়ের তুলনায় দ্রুত বদলেছে। নিক্সনই একমাত্র অন্য অন্য দুই মেয়াদের প্রেসিডেন্ট যিনি অভিশংসনের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসমর্থন পেয়েছিলেন।
এরই মধ্যে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করেছে। ৭ এপ্রিল তিনি হুমকি দেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য তাঁর দেওয়া সময়সীমা পূরণ না করে, তবে ‘আজ রাতেই একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনও ফিরে আসবে না।’ পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়ে ইরান প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেয়।
ইরান ইস্যুতে এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফেব্রুয়ারির শেষে তার সমর্থন ছিল ৪২ শতাংশ, যা এপ্রিলের শুরুতে কমে ৩৯ শতাংশে নেমে আসে। একই সময়ে তার বিরুদ্ধে জনসমর্থন বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩ শতাংশে—যা তার দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বনিম্ন জনপ্রিয়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

