যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ, কী হবে ট্রাম্পের ভাগ্যে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ, কী হবে ট্রাম্পের ভাগ্যে
ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি দুই বছর পরপর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে যে নির্বাচন হয়, তাকে বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম ইলেকশন। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটাররা কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের সদস্য নির্বাচন করবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নরসহ স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিও নির্বাচিত হবেন।

বিজ্ঞাপন

কেন ভোট দিচ্ছেন মার্কিন ভোটাররা?

যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন মনোনয়ন অনুমোদনের ক্ষেত্রে কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কংগ্রেসে নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নিতে ভোট দেবেন মার্কিন নাগরিকেরা।

এবার সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিনেটররা ছয় বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতেই ভোট হবে। এই পরিষদের সদস্যরা দুই বছর মেয়াদে নির্বাচিত হন। আইন প্রণয়ন, সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন তাঁরা।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। গভর্নররা নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাচনের মূল ইস্যু কী কী?

এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে অর্থনীতি অন্যতম প্রধান ইস্যু। জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার বাড়তি খরচে চাপে রয়েছেন অনেক মার্কিন নাগরিক।

মুদ্রাস্ফীতিও ভোটারদের উদ্বেগের বড় কারণ। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে মূল্যস্ফীতির হার। ইরানের বিরুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধের প্রভাবও অর্থনীতিতে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থনীতির পাশাপাশি অভিবাসন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও ভোটারদের আগ্রহ রয়েছে।

ট্রাম্পের জন্য এই নির্বাচনের গুরুত্ব কী?

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি, নাকি বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

trump

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্পের জন্য নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন।

এ নির্বাচনের ফলাফল থেকে ট্রাম্পের প্রতি মার্কিন ভোটারদের সমর্থন ও অসন্তোষের মাত্রা সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে।

রিপাবলিকান কারা?

রিপাবলিকান পার্টি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের একটি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দলের নেতা। দলটির সমর্থকদের রিপাবলিকান বলা হয়।

ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

অর্থনৈতিকভাবে দলটি সাধারণত রক্ষণশীল নীতির পক্ষে। ছোট সরকার, কম কর এবং ব্যবসাবান্ধব নীতিকে তারা গুরুত্ব দেয়। রিপাবলিকান পার্টির প্রতীকী রং লাল। দলটি ‘জিওপি’ বা গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি নামেও পরিচিত।

ডেমোক্র্যাট কারা?

ডেমোক্র্যাটরা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে এটি রিপাবলিকানদের প্রতিদ্বন্দ্বী।

ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

ডেমোক্র্যাটরা সাধারণত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় সরকারের বড় ভূমিকার পক্ষে। পাশাপাশি গর্ভপাতের অধিকার এবং দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তার মতো সামাজিক ইস্যুতে দলটি গুরুত্ব দেয়।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতীকী রং নীল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন