১৯ বছর বয়সে হয়েছিলেন ফার্স্ট লেডি, এখন লড়ছেন পেরুর প্রেসিডেন্ট পদে

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

১৯ বছর বয়সে হয়েছিলেন ফার্স্ট লেডি, এখন লড়ছেন পেরুর প্রেসিডেন্ট পদে
পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির মেয়ে কেইকো ফুজিমোরি। ছবি সংগৃহিত

পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির মেয়ে কেইকো ফুজিমোরি আবারো দেশটির সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পদে পৌঁছানোর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন। ১৯ বছর বয়সে দেশের ফার্স্ট লেডি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করা কেইকো এবার চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিজ্ঞাপন

রোববার অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ৫১ বছর বয়সী কেইকো ফুজিমোরির প্রতিদ্বন্দ্বী বামপন্থী নেতা রবার্তো সানচেজ। সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপে কেইকোকে সামান্য এগিয়ে রাখা হয়েছে। ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনে টানা তিনবার পরাজয়ের পর এবার তার সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আয়োজিত সামিট অব দ্য আমেরিকাসে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে প্রথমবার আন্তর্জাতিক নজরে আসেন কেইকো। দুর্নীতির অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার পর তার মা সুসানা হিগুচি আলবার্তো ফুজিমোরির থেকে আলাদা হয়ে গেলে কেইকো ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেখান থেকেই তার রাজনৈতিক যাত্রার শুরু।

fuji
fuji

বর্তমান নির্বাচনি প্রচারণায় কেইকো ফুজিমোরি আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে পেরুকে বের করে আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। গত এক দশকে দেশটিতে আটজন প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের ঘটনা রাজনৈতিক সংকটকে আরো গভীর করেছে। দুর্নীতি, সংগঠিত অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতা এখন দেশটির বড় চ্যালেঞ্জ।

নির্বাচনি বিতর্কে কেইকো বলেন, আমাদের প্রয়োজন শৃঙ্খলা বাঁচার জন্য শৃঙ্খলা, বিনিয়োগের জন্য শৃঙ্খলা, কাজের জন্য শৃঙ্খলা। তিনি আরো বলেন, এই নির্বাচন আমাকে নিয়ে নয়; আগামী পাঁচ বছরে দেশ কোন পথে যাবে, সেটি নির্ধারণের নির্বাচন।

ফুজিমোরিবাদের উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত কেইকো ২০০০ সালে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরে ‘ফুয়ের্সা পপুলার’ (পপুলার ফোর্স) দল প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রাজিলীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওদেব্রেখটের কাছ থেকে নির্বাচনি তহবিল গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি তদন্তের সময় তিনি ১৩ মাস কারাভোগও করেন। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আদালত তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাটি বাতিল ঘোষণা করে। কেইকোর দাবি, তিনি এক দশক ধরে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরি ও তার মেয়ে কেইকো ফুজিমোরি। ছবি: বিবিসি
পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরি ও তার মেয়ে কেইকো ফুজিমোরি। ছবি: বিবিসি

তবে এবারের প্রচারণায় তার অবস্থান আগের তুলনায় অনেকটা সংযত। ২০২১ সালের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিয়োর বিরুদ্ধে প্রচারণায় অতিরিক্ত মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেইকো এবার নিজেকে আরো পরিমিত ও বাস্তববাদী নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে, তার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বোঝা হয়ে আছে বাবার উত্তরাধিকার। আলবার্তো ফুজিমোরি ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সফল অভিযানের জন্য তিনি প্রশংসিত হলেও মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির অভিযোগে পরবর্তীতে দোষী সাব্যস্ত হন। ২০০৯ সালে তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এই উত্তরাধিকারকে সামনে রেখে কেইকোর বিরোধীরা এখনও তার বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ‘কেইকো নো ভা’ (কেইকো জিতবে না) স্লোগানে সম্প্রতি রাজধানী লিমায় বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে আগের মতো তীব্র ‘অ্যান্টি-ফুজিমোরি’ মনোভাব আর নেই।

paru2
paru2

পেরুর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও দুর্নীতির কারণে ভোটারদের বড় একটি অংশ এখনও সিদ্ধান্তহীন। বাধ্যতামূলক ভোটের এই দেশে অনেকেই ‘কম ক্ষতিকর’ প্রার্থী বেছে নেওয়ার কথা বলছেন, আবার কেউ কেউ ভোট বাতিলের আহ্বান জানাচ্ছেন।

তবে কেইকোর সমর্থকদের বিশ্বাস, অতীতের অভিজ্ঞতা তাকে আরো পরিণত করেছে এবং এবার তিনি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে এনে স্থিতিশীল সরকার গঠন করতে সক্ষম হবেন।

তিন দশকেরও বেশি সময় আগে ফার্স্ট লেডি হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করা কেইকো ফুজিমোরি এবার সফল হলে গত এক দশকে পেরুর নবম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাস গড়বেন।

সূত্র: সিএনএন

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন