পরিষদ চত্বরের গাছ কাটার অভিযোগে আ.লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যানকে শোকজ

পরিষদ চত্বরের গাছ কাটার অভিযোগে আ.লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যানকে শোকজ

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার ৬ নম্বর আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চত্বরের সীমানা প্রাচীরের ভেতর থেকে সরকারি অনুমতি ছাড়া ছয়টি মূল্যবান গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আবদুল মন্নাফের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে মেহগনি ও আকাশমনি জাতের ছয়টি গাছ কেটে নিকটস্থ করাতকলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গভীর রাতে মানুষের অগোচরে গাছগুলো কাটা হয়েছে। তবে ইউপি পরিষদের সদস্য কিংবা প্যানেল চেয়ারম্যানদের এ বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি বলে তারা দাবি করেছেন।

স্থানীয়দের ধারণা, কেটে ফেলা গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। সরকারি প্রতিষ্ঠানের চত্বর থেকে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান পলাশ মিয়া বলেন, ‘গাছ কাটার ব্যাপারে চেয়ারম্যান আমাদের পরিষদের কাউকে কিছু জানাননি। অন্য ইউপি সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেও দেখেছি, তারাও বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মন্নাফ। তিনি বলেন, ‘গাছগুলো রাতের আঁধারে কাটা হয়নি। ২০ থেকে ২৫ দিন আগেই গাছগুলো কাটা হয়েছে। তিনটি গাছ মরে গিয়ে ডালপালা ভেঙে পড়ছিল। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধার মৌখিক অনুমতি নিয়েই গাছগুলো কাটা হয়।’

তিনি আরও দাবি করেন, গাছগুলো বিক্রি করা হয়নি; কাটা গাছগুলো করাতকলেই রাখা হয়েছে। একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্যানেল চেয়ারম্যান তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চেয়ারম্যানের মৌখিক অনুমতির দাবির বিষয়ে বক্তব্য জানতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, সরকারি অনুমতির বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান ভিন্ন। অষ্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল আহাদ বলেন, পরিষদের গাছ কাটার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ‘সরকারি বিধিবিধান বহির্ভূতভাবে ইউনিয়ন পরিষদের গাছ কাটার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মন্নাফকে বৃহস্পতিবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শোকজ নোটিশে সরকারি সম্পদ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে থাকা গাছ কাটার বিষয়ে চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন