হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কয়েক মাস পর ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে ফিরছেন বাসিন্দারা

আমার দেশ অনলাইন

হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কয়েক মাস পর ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে ফিরছেন বাসিন্দারা

গত বছর একটি বিশাল অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডে গৃহহীন হওয়া হংকংয়ের বাসিন্দারা তাদের অবশিষ্ট জিনিসপত্র সংগ্রহের জন্য সোমবার প্রথমবারের মতো সেখানে ফিরতে শুরু করেছেন। হংকং থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত নভেম্বরে ওয়াং ফুক কোর্ট কমপ্লেক্সের আটটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের মধ্যে সাতটিতে ছড়িয়ে পড়া এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬৮ জন মারা যান, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে শহরটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড।

ঘটনার পর এই প্রথম সোমবার থেকে প্রায় ৬ হাজার বাসিন্দাকে তাদের বাড়িতে প্রবেশের জন্য তিন ঘণ্টার সময় দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে পারেন।

১ হাজার ৭০০টি ফ্ল্যাটে এই তল্লাশি চালানোর প্রক্রিয়াটি মে মাসের শুরুর দিকে শেষ হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

এএফপি’র একজন প্রতিবেদক সরকারিভাবে পরিচালিত শাটল বাস থেকে বাসিন্দাদের আবাসস্থলে নামতে দেখেন।

ফায়ার সার্ভিস বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ৯২০টিরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

তাই কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, কিছু ফ্ল্যাটের ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়েছে অথবা পুড়ে কালো হয়ে গেছে এবং ভেতরের অংশ ধ্বংসাবশেষে ঢেকে আছে।

হংকংয়ের তাই পো জেলার এই আবাসিক কমপ্লেক্সের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে ‘বিপজ্জনক অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করে ঘিরে রাখা হয়েছে।

যে সব স্থানে ভবনের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেখানে সংস্কার কাজ চালানো হয়েছে।

ফ্ল্যাটে ফেরার সময় বাসিন্দাদের ফেস মাস্ক, হেলমেট ও গ্লাভস পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

চুং নামের ৫০ বছর বয়সী একজন বাসিন্দা সাংবাদিকদের জানান, সোমবার নিজের ফ্ল্যাটে ফেরার আগে তিনি স্ক্রু ড্রাইভার, কাঁচি ও প্লাস্টিকের ব্যাগ গুছিয়ে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সেখানে যাওয়ার পর চাবির ছিদ্র ধুলোয় ভরা থাকতে পারে, তাই কোনও কিছু খোলার প্রয়োজন হলে, হাতের কাছে সরঞ্জাম না থাকার চিন্তায় আমি এগুলো সঙ্গে নিয়েছি।’

অগ্নিকাণ্ডের দিন ভবন থেকে বের হওয়া শেষ বাসিন্দাদের একজন হ্যারি লেউং এএফপিকে জানান, সেখানে ফেরার বিষয়ে তার মনে মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। জীবনের অধিকাংশ সময় কাটানো ফ্ল্যাটটি দেখার জন্য তিনি উন্মুখ হয়ে থাকলেও, সেখানে কাটানোর জন্য মাত্র তিন ঘণ্টা সময় বরাদ্দ দেওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তার মতে, তিন ঘণ্টা সময় মোটেও যথেষ্ট নয়।

হংকং কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও, অগ্নিকাণ্ডের আগের বাজার মূল্যে ফ্ল্যাটগুলো কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

তবে তারা সাফ জানিয়েছে, একই স্থানে পুনরায় কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা সম্ভব নয়।

লেউং এএফপিকে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি অনেকেই সরকারের এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে চান না, কিন্তু তাদের সামনে কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, তারা এটি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন। আমার হাতে সুযোগ থাকলে আমি কখনোই ওয়াং ফুক কোর্ট ছেড়ে যেতাম না।

বেটি হো জানান যে তিনি তার শৈশবের ছবির অ্যালবামগুলো উদ্ধার করতে চান এটি তার কাছে সবচেয়ে অগ্রধিকার।

তিনি বলেন, তার পরিবারের সারা জীবনের সব সঞ্চয় ওই ভবনের ভেতরেই আছে।

হো ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে থাকা তার ফ্ল্যাটে আগামী মে মাসে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

১৯৮০ সালের পর বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই আবাসিক অগ্নিকাণ্ডের পর হোকে ওই আবাসস্থলের পাশেই অস্থায়ী আবাসে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আপাতত তিনি বছরের শেষ পর্যন্ত সেখানে থাকতে পারবেন।

তবে ভবিষ্যতের আবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তিনি উদ্বেগ ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের কি উচ্ছেদ করা হবে? আমি থাকার জায়গা কোথায় পাব?’

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন