ইতালিতে তরুণ ভোটারদের নিয়ে সরকারের নতুন চিন্তা

ইতালিতে তরুণ ভোটারদের নিয়ে সরকারের নতুন চিন্তা

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার আগামী নির্বাচনের আগে তরুণ ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখা নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিভিন্ন জরিপ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইতালির তরুণদের একটি অংশ সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে অসন্তুষ্ট।

তবে সমস্যাটি শুধু জনপ্রিয়তার নয়। ৩৫ বছরের কম বয়সি ভোটারদের মধ্যে মেলোনি সরকারের অনুমোদনের হার মাত্র ২৫ শতাংশ, যেখানে পুরো জনসংখ্যার মধ্যে তা ৩৫ শতাংশ। ইতালির ২০২৭ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন

জরিপ সংস্থা ইউট্রেন্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে মেলোনির ডানপন্থি জোটের সমর্থন ৩০ শতাংশেরও কম। বিপরীতে ডেমোক্রেটিক পার্টি, ফাইভ স্টার মুভমেন্ট ও বাম-সবুজ জোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের সমর্থন প্রায় ৫০ শতাংশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর মেলোনি তরুণদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়াতে উল্লেখযোগ্য সংস্কার করতে পারেননি। ইতালিতে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সিদের কর্মসংস্থানের হার ইউরোজোনের ২১ দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। দেশটি শিক্ষা খাতেও ইউরোপের অধিকাংশ অংশীদার দেশের তুলনায় কম বিনিয়োগ করে।

ব্যাংক অব ইতালির তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে একজন তরুণ স্নাতকের গড় আয় ইতালির একই বয়সি একজন স্নাতকের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি। ভালো কাজ ও ভবিষ্যতের সন্ধানে প্রতি বছর হাজার হাজার তরুণ ইতালি ছেড়ে বিদেশে চলে যাচ্ছেন।

সরকারের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক কিছু পদক্ষেপও তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। মেলোনি সরকার রেভ পার্টি, সড়ক অবরোধ, অবৈধভাবে ভবন দখল এবং কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন করেছে। গত বছর ‘নো মেলোনি ডে’ কর্মসূচিতে হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ সরকারের নিরাপত্তা আইন, শিক্ষাখাতে ব্যয় কমানো এবং গাজা ইস্যুতে মেলোনির অবস্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন।

সরকার সম্প্রতি কিশোরদের ফৌজদারি দায়বদ্ধতার নিয়ম পরিবর্তনের একটি বিলও উত্থাপন করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের অপরাধের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ দায়বদ্ধ বলে গণ্য করা হবে, যদি না বিপরীত প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২৩ সালে কিশোর অপরাধের শাস্তি কঠোর করার পর থেকে কিশোর কারাগারের বন্দির সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে বলে কারাবন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন অ্যান্টিগোনের তথ্য।

তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ সাধারণত নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী নয়। কিন্তু গত মার্চে মেলোনির সমর্থিত বিচারব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটে পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখা যায়। ৩৫ বছরের কম বয়সীদের প্রায় ৬৭ শতাংশ ভোট দেন এবং তাদের ৬০ শতাংশ সংস্কার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, তরুণরা যদি আগামী জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপকভাবে ভোট দিতে যান, তাহলে ইতালির রাজনৈতিক ফলাফল নির্ধারণে তাদের ভূমিকা হতে পারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটিই প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন