ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অর্থায়নে জুনে ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা বেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ হওয়ার পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা এখনো প্রয়োজনের তুলনায় কম রয়েছে। কিয়েল ইনস্টিটিউটের তথ্য থেকে বৃহস্পতিবার এ কথা জানা গেছে।
জুনে ইউক্রেনকে ৭২০ কোটি ইউরো (৮৩০ কোটি ডলার) সামরিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে পাওয়া ৯০৪ কোটি ইউরোর পর এটি সর্বোচ্চ মাসিক সহায়তা। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায়।
লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
জার্মানির কিয়েল ইনস্টিটিউটের ইউক্রেন সাপোর্ট ট্র্যাকার অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে দাতাদের কাছ থেকে এক মাসে পাওয়া সামরিক সহায়তার দিক থেকে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
এই সহায়তা বৃদ্ধির মূল কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন ‘ইউক্রেন সাপোর্ট লোন’। এর আওতায় মে ও জুনে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ইউক্রেনকে ৪৩০ কোটি ইউরো সামরিক সহায়তা দিয়েছে।
২০২৬ ও ২০২৭ সালে ইউক্রেনের বাজেট ও প্রতিরক্ষা প্রয়োজন মেটাতে ৯ হাজার কোটি ইউরোর এই ইইউ ঋণ চালু করা হয়েছে।
কিয়েলের ইউক্রেন সাপোর্ট ট্র্যাকার প্রকল্পের প্রধান তারো নিশিকাওয়া বলেন, ‘ইউক্রেন সাপোর্ট লোন দ্রুত চালু হওয়া ইউক্রেনের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।’
এই ঋণ সহায়তার পাশাপাশি জার্মানি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে সহায়তায় ৭০ কোটি ইউরো, ডেনমার্ক ৬০ কোটি ইউরো এবং নেদারল্যান্ডস ৫০ কোটি ইউরো দিয়েছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মাত্রা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থায়ন বন্ধ করার আগের পর্যায়ের নিচে রয়েছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির আগে দাতারা ইউক্রেনকে মাসে গড়ে ৩৪৬ কোটি ইউরো সামরিক সহায়তা দিতেন। এরপর সেই পরিমাণ কমে মাসে ২৯৪ কোটি ইউরোতে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সরাসরি অর্থ দিচ্ছে না। তবে দেশটির অস্ত্র এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ইউরোপ ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অস্ত্র কিনছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সামরিক মজুত থেকেও অস্ত্র সরবরাহ পাচ্ছে।
ইউক্রেন সাপোর্ট ট্র্যাকারের প্রধান বিশ্লেষক ফেদেরিকো মেল্লাচে বলেন, ‘প্যাট্রিয়টের মতো অস্ত্রব্যবস্থার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখনো গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। এ মুহূর্তে এসব ব্যবস্থার বিকল্প ইউরোপের হাতে সীমিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে মূল প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্য বিকল্প ইউরোপ তৈরি ও উৎপাদন করতে পারবে কি না। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।’
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


