নির্বাচনি কৌশলবিদ থেকে হয়েছেন রাজনীতিবিদ। তবে রাজনীতিক হিসেবে নতুন দল জনসুরাজ পার্টি (জেএসপি) গঠন করলেও সাফল্য অধরাই ছিল প্রশান্ত কিশোরের। পি কে নামে পরিচিত সেই প্রশান্ত কিশোর প্রথমবার নির্বাচনি লড়াইয়ে নেমেই দেখাচ্ছেন চমক । বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে ভোট গণনায় এগিয়ে রয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে বিজেপি। আর বেশ কিছুটা পিছিয়ে থেকে তৃতীয় স্থানে আরজেডি।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নবম দফার গণনা শেষে কিশোর পেয়েছেন ১৭ হাজার ৮৫৬ ভোট এবং বিজেপির নীরজ কুমার তার থেকে ৫ হাজার ২৭২ ভোটে পিছিয়ে আছেন।
বাঁকিপুর বিজেপির ‘দুর্ভেদ্য ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত। ২০১০ সাল থেকে পরপর চারবার এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির নিতিন নবীন। ২০২৫ সালে ৬২ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। নিতিন রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় এই আসনে পুনর্নির্বাচন হচ্ছে।
২০২৫ সালে বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরের দল জেএসপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলও প্রার্থী হননি তিনি। সেই ভোটে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছিল তার দলকে।
বাঁকিপুরের উপনির্বাচনে কিশোর প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় রাজনৈতিক মহলের অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে কেন রাজনৈতিক লড়াই শুরু করছেন তিনি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে প্রাথমিক গণনার পর চমক দেখাচ্ছেন তিনি।
কিশোর যদি এই আসনে জয়ী হন, তাহলে বাঁকিপুর এই প্রথম হাতছাড়া হবে বিজেপির। বাঁকিপুর বিধানসভার একটি বড় অংশ আগে পাটনা পশ্চিম কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত পর পর চারবার এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন নিতিনের বাবা নবীন কিশোর প্রসাদ সিন্হা।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ভারতজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের পর এটিই প্রথম নির্বাচন। এই ফলাফল ভারতের, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মনোভাবের ইঙ্গিত দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র:
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


