দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বান্দরবানের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরি পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় জেলাজুড়ে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন। তার মন্ত্রিত্বকে ঘিরে জেলার সাত উপজেলা ও ৩৪ ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নতুন করে উন্নয়ন ও জনকল্যাণের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন অফিস ও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানের রাজনীতিতে সাচিং প্রু জেরির নির্বাচনি পথচলা দীর্ঘদিনের। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর বাহাদুর উশৈসিং জয়ী হন। একই সময়ে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির মাম্যাচিং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাচিং প্রু জেরি জয় পেলেও একই বছরের জুনে অনুষ্ঠিত পুনর্নির্বাচনে বীর বাহাদুর উশৈসিং আবারও বিজয়ী হন।
এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন জেরি। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি ৫১ হাজার ৫৪০ ভোট পান। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে প্রায় ১৯ হাজার ভোটে পরাজিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
সংসদ সদস্য হিসেবে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পর এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন সাচিং প্রু জেরি। তার বাবা অংশৈ প্রু চৌধুরী ছিলেন তৎকালীন বান্দরবান বোমাং সার্কেলের চিফ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারের সময় তিনি খাদ্য, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
এর আগে বিগত সরকারের সময়ও বান্দরবানের সংসদ সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। নতুন সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে আবারো বান্দরবান থেকে একজন পূর্ণ মন্ত্রী পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুরু থেকেই সাচিং প্রু জেরিকে মন্ত্রী হিসেবে পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল। প্রথম ধাপে মন্ত্রিসভায় স্থান না পেলেও দ্বিতীয় দফায় যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনি কাঙ্ক্ষিত দায়িত্ব পেয়েছেন। এতে বান্দরবানবাসী যেমন আনন্দিত, তেমনি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারি ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দৌলতুল কবীর খান সিদ্দিকী বলেন, কিছুটা দেরিতে হলেও বান্দরবান প্রত্যাশিত মন্ত্রী পেয়েছে। সাচিং প্রু জেরির মন্ত্রিত্বকে তিনি জেলার মানুষের জন্য আনন্দের সংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, নতুন মন্ত্রীর নেতৃত্বে বান্দরবানের উন্নয়ন আরো গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. জাবেদ রেজা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকা সাচিং প্রু জেরি মন্ত্রিত্ব পাওয়ার যোগ্য দাবিদার। তার মন্ত্রিত্ব বিএনপি নেতাকর্মীসহ পুরো বান্দরবানবাসীর জন্য আনন্দের। নতুন মন্ত্রীর প্রতি তার প্রত্যাশা, তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি সব জাতিগোষ্ঠীকে সমান গুরুত্ব দিয়ে জেলার উন্নয়নে কাজ করবেন। উন্নয়নের সুফল যেন কোনো জনগোষ্ঠী থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকেও তিনি গুরুত্ব দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
বান্দরবানবাসীর প্রত্যাশা, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরি জেলার অবকাঠামো, জনকল্যাণ ও সামগ্রিক উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


