ভারতের দিল্লিতে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী সাংবাদিকদের যৌন হেনস্থার অভিযোগের ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত দিল্লি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের দাবিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে অভিযোগকারিণীসহ ১৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার সকালে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে বিক্ষোভ করেন কয়েকজন সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী। পরে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ১৮ জনকে আটক করে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। আটকদের মধ্যে সেই নারী সাংবাদিকও রয়েছেন, যিনি এসিপি বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন নারী সাংবাদিক যৌন হেনস্থার শিকার হন। এ ঘটনায় তারা এসিপি বিবেক ভগতের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর শনিবার রাত থেকেই পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে বিক্ষোভ শুরু হয়। রোববার রাতেও সেখানে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।
সোমবার সকালে হঠাৎ করে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে ধরপাকড় শুরু করে। থানার সামনে থাকা কয়েকজন বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিককে আটক করা হয়। অভিযোগকারিণী সাংবাদিকও এ সময় পুলিশের হাত থেকে রেহাই পাননি।
ঘটনাটি নিয়ে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ভয় দেখাতেই পুলিশ ধরপাকড়ের পথ বেছে নিয়েছে।
রোববারও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবিতে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে বিক্ষোভ করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির নেতা সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, অভিযোগকারিণী ও তার আইনজীবীরা উপস্থিত থাকলেও পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহ দেখায়নি।
পরে এসিপি বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের দাবিতে পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে থানায় যান ককরোচ পার্টির নেতা সৌরভ দাস ও সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট। তবে এরপরও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। সিজেপির অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ অভিযুক্ত এসিপিকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে।
নারী সাংবাদিকদের নিগ্রহের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।
রোববার কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বাড্রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যে পুলিশের দায়িত্ব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেই পুলিশের কারণেই নারীরা যদি নিজেদের অনিরাপদ মনে করেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কলেজছাত্রী থেকে সাংবাদিক—সব ক্ষেত্রেই নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নারীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করা উচিত কি না।
সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


