‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি দাবি করেছেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে আরো বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে উঠবে।
দিল্লিতে মাসব্যাপী আন্দোলন শেষে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দিপকে এসব কথা বলেন। তার অভিযোগ, ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘সংসদ অভিযান’ কর্মসূচিতে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ছররা গুলি ব্যবহার করে এবং এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
ওই প্রবল গণআন্দোলনের জেরে ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনকারী ছাত্রনেতা ও কর্মীদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে পুলিশ। দেওয়া হচ্ছে, গ্রেপ্তারির কড়া হুমকি। পরিবারের সদস্যদেরও অহেতুক হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারের এ দমনপীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। আন্দোলনকারীদের ভয় দেখানোর উদ্দেশে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
পুলিশি হেনস্তা অবিলম্বে বন্ধ না হলে দেশের যুবসমাজ আগামী দিনে সরকারকেই বদলে দেবে দাবি করে তিনি আরো বলেন, আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ না করে সরকারের উচিত সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়েছে, এমনটা ভাবলে মস্ত বড় ভুল হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বলপ্রয়োগের নির্দেশ যেই দিয়ে থাকুন না কেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নামও উল্লেখ করেন।
তিনি মনে করিয়ে দেন, ছাত্ররোষের কারণেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। ঠিক একইভাবে সরকার যদি নিজেদের শুধরে না নেয়, তবে আগামীকাল তারা এ সরকারকেই বদলে দেবেন।
এদিকে আন্দোলন ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক ও আইনি মহলেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই দেশটির সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে কড়া নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া কোনোভাবেই ছররা গুলি ব্যবহার করা যাবে না। অন্যদিকে বিরোধী দল পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও কেন্দ্রীয় সরকার তা অস্বীকার করেছে। শাসক দল বিজেপি পুলিশের পদক্ষেপকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অংশ বলে দাবি করে। আর সিজেপি জানিয়েছে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে এফআইআর প্রত্যাহার না হলে তারা দেশব্যাপী আরো বৃহত্তর ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পথে হাঁটবে।
‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত এক মাস ধরে ভারতের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের এ স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে নিছক আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল করবে সরকার। অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে ভারতের শাসক দলকে হয়তো দীর্ঘমেয়াদে এর বড় রাজনৈতিক মূল্য চুকাতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

