হরমুজ প্রণালি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, দাবি ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, দাবি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে ইরানের বন্দর অভিমুখে যাওয়া একটি পণ্যবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেটি অচল করেছে মার্কিন বাহিনী। ফলে হরমুজ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরো বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের পরিস্থিতি ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’ এবং হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।

তবে তার এ দাবির পরও প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী ভেলা নোভা নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজ ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। জাহাজটিকে কয়েক দফা সতর্ক করার পরও সেটি নির্দেশনা না মানায় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার থেকে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জাহাজটির ইঞ্জিনরুমের দিকে আঘাত করে। এতে জাহাজটি অচল হয়ে পড়ে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ ভঙ্গের চেষ্টা করছিল জাহাজটি। এ কারণে সেটিকে থামাতে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। জাহাজটিতে থাকা ১৭ জন ক্রু নিরাপদে আছেন এবং হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনে এ সমুদ্রপথ ব্যবহৃত হয়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ইতোমধ্যে হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমেছে। সোমবার মাত্র ছয়টি জাহাজ প্রণালিটি দিয়ে চলাচল করেছে। যুদ্ধের আগে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন এ পথে প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত।

এদিকে হরমুজ নিয়ে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। ইরান ও ওমানের মধ্যে প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এর আগে ট্রাম্পও হরমুজ পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সম্ভাব্য সমঝোতার কথা বলেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।

ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক করার সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য শর্তের বিষয়টি যুক্ত করেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প ইরানের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন। ফলে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক চাপও অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, ট্রাম্পের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ দাবির চেয়ে হরমুজে বাস্তব জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রণালিটি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে। মঙ্গলবারের জাহাজে মার্কিন হামলা সেই অনিশ্চয়তাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...