অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জমি থেকে জলপাই লুট করার অনুমতি দিয়ে ধর্মীয় ফতোয়া বা নির্দেশ জারি করেছেন প্রভাবশালী ইসরাইলি রাবি ডভ লিওর। এই ইহুদি ধর্মগুরুর দাবি, জলপাই সংগ্রহের মাধ্যমে ওই ভূমির ওপর ইহুদিদের মালিকানা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
শুক্রবার জারি করা এই ধর্মীয় ফতোয়া ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেল ১৩-এ প্রকাশিত হয়। পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে প্রভাবশালী ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে পরিচিত লিওর দাবি করেন, ফিলিস্তিনিরা তাদের জমির বৈধ মালিক নন। তার যুক্তি হলো, তারা ইসরাইলি জনগণ কিংবা কোনো ইহুদির কাছ থেকে জমিগুলো কেনেননি; তাই এসব জমি আসলে ‘চুরি করা সম্পত্তি’।
ইহুদি ধর্মীয় আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে লিওর দাবি করেন, চুরির মাধ্যমে জমির মালিকানা হস্তান্তরিত হতে পারে না। সুতরাং, ফিলিস্তিনিদের জমি আসলে ‘ইসরায়েলি জনগণ’-এরই সম্পত্তি।
তিনি যুক্তি দেন, ফিলিস্তিনিরা নিজেদের জমিতে জলপাইগাছ রোপণ করলেও তাতে জমি কিংবা উৎপাদিত ফসলের ওপর তাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না।
লিওর আরো দাবি করেন, বছরের পর বছর জলপাইয়ের ফল ভোগ করার মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিরা গাছ রোপণের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ পেয়ে গেছেন। ফলে জমি ও ফসল উভয়ই তার কথিত ‘প্রকৃত মালিকদের’ কাছে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
তার এই ফতোয়া শুধু অবৈধ ইসরাইলি বসতির আশপাশের জমিতে সীমাবদ্ধ নয়। বসতি থেকে দূরবর্তী ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোর জলপাইয়ের ফসল সংগ্রহেরও অনুমতি দিয়েছেন তিনি।
এমন সময় এই ধর্মীয় নির্দেশ দেওয়া হলো, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনি কৃষক ও তাদের সম্পত্তির ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বাড়ছে। এসব হামলার মধ্যে রয়েছে কৃষকদের ওপর শারীরিক আক্রমণ, জমিতে প্রবেশে বাধা, জলপাইগাছ ধ্বংস এবং ফসল লুট।
প্রতি বছর অক্টোবরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুম থাকে। এ সময় ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়মিতভাবে ঘটে। চলতি মাসেও ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি তাদের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও অন্যান্য সম্পত্তিতে হামলার ঘটনা বেড়েছে।
ফিলিস্তিনি, ইসরাইলি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করে আসছে, এসব সহিংসতা বন্ধে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। একই সঙ্গে হামলাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, কৃষিজমি, যানবাহন ও অন্যান্য সম্পত্তি নিয়মিতভাবে এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গড়ে তোলা ইসরাইলি বসতিগুলো অবৈধ। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিরা তাদের ভূমির ওপর নিজেদের অধিকার বজায় রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন এবং জমি দখলের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করছেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


