ইয়েমেনের হুথি সূত্রগুলো দাবি করেছে, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের অবরোধ প্রত্যাহার না করা হলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনাগুলোও ভবিষ্যতে হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। খবর আলজাজিরার।
হুথিদের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার লক্ষ্যবস্তু করা দুটি সৌদি জাহাজের মধ্যে একটিতে ড্রোন এবং অন্যটিতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।
হুথি গোষ্ঠী ও ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, একটি জাহাজের ওপরের ডেকে আঘাত লাগে এবং সেখানে আগুন ধরে যায়। তবে জাহাজের মূল কাঠামো (হাল) ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় সেটি ডুবে যায়নি।
হুথিদের দাবি, দুটি জাহাজই হামলার শিকার হয়েছে। তবে ব্রিটিশ সামুদ্রিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, দ্বিতীয় ট্যাংকারটি মাঝপথ থেকে দিক পরিবর্তন করে সুয়েজ খালের দিকে ফিরে যায়।
এদিকে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা অন্তত ১০টি জাহাজ নিরাপত্তাজনিত কারণে পথ পরিবর্তন করে সুয়েজ খালের দিকে গেছে। ফলে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া দুটি জাহাজের গন্তব্য ছিল ভারত ও চীন।
হুথিরা তাদের এই অভিযানকে “অবরোধের জবাবে অবরোধ” হিসেবে বর্ণনা করেছে। গোষ্ঠীটি সতর্ক করে বলেছে, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার না করে, তাহলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হুথি কর্মকর্তাদের দাবি, ভবিষ্যতে তারা শুধু বাব আল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজ নয়, সৌদি আরবের তেলবাহী ট্যাংকার ও অন্যান্য জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। অর্থাৎ, সুয়েজ খাল হয়ে বিকল্প পথে চলাচলকারী জাহাজও হামলার ঝুঁকিতে থাকতে পারে।
এছাড়া হুথি সূত্রের দাবি, ইয়েমেনের ওপর অবরোধ অব্যাহত থাকলে সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনাগুলোও ভবিষ্যতে হামলার লক্ষ্য হতে পারে।
তবে আরামকোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই হুমকির বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


