নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা। সংস্থাটি এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন উল্লেখ করে এটিকে ‘সন্ত্রাসী ও বর্বরোচিত আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছে ইরান।
আল জাজিরার উদ্ধৃত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, সন্ত্রাসী ও অপরাধী মার্কিন সরকার, যার প্রকৃতি নিপীড়ন ও আইনহীনতার প্রতীক, তারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এই আগ্রাসী ও বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে ডারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ইরানি জাতির মর্যাদা ও বৈজ্ঞানিক আত্মনির্ভরতার অন্যতম প্রতীক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা টানা অষ্টম রাতের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ঘোষণা করে, জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং আরেকজন নিখোঁজ হয়েছেন।
গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেঙে পড়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই হামলা জোরদার করেছে। এতে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ফেরার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিমান হামলা শুরু হয়।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের প্রতি ইরানের হুমকি কমানো এবং আগের রাতে জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানো আইআরজিসি বাহিনীকে দ্রুত শাস্তি দেওয়ার লক্ষ্যেই এই হামলা পরিচালিত হয়েছে।
পরে সেন্টকম জানায়, হামলায় ইরানের উপকূলীয় সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুই মার্কিন সেনাসদস্য শুক্রবার প্রাণ হারান এবং আরেকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এর ফলে চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে মোট ১৬ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং ৪২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, তাদের এই আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।
এদিকে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘বিধ্বংসী জবাবের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানি কমান্ডার
ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর-জেনারেল আলী আবদুল্লাহি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন যে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে যেকোনো আগ্রাসন বা বর্বরতার জবাব একটি চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আবদুল্লাহি যুক্তরাষ্ট্রকে মহা শয়তান এবং অপরাধী, বিশ্বাসঘাতক ও প্রতারক সেনাবাহিনী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

আল জাজিরা আরও জানিয়েছে, কমান্ডার সশস্ত্র বাহিনী, ইরানের জনগণ এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে ঐক্য জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং পূর্ববর্তী যুদ্ধগুলোর চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরও বড় মূল্য চাপিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
কমান্ডার আরও বলেন, ‘আমাদের প্রিয় দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিই হলো— গৌরবময় ও বিশাল ইরানি ভূখণ্ডের দক্ষিণ থেকে উত্তর এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত এই গর্বিত ও সাহসী জাতির শান্তি ও নিরাপত্তার এক মজবুত ভিত্তি।’
সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


