ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ উত্তর গাজায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। ছবিটিতে গাজার বেইত লাহিয়া এলাকার দুজন বয়োবৃদ্ধ ফিলিস্তিনি নাদি মারুফ ও আলী মারুফকে চোখ বাঁধা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনুস তিরাউই ছবিটি এক্স-এ প্রকাশ করেছেন।
সামরিক অভিযানের সময় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চলা নিপীড়নের অভিযোগকে নতুন করে সামনে এনেছে এই ফাঁস হওয়া ছবিটি। ওই বৃদ্ধদের পরনে ছিল শুধু অন্তর্বাস এবং একজনের হাত পেছনে বাঁধা ছিল। ইসরাইলি সেনারা কোনো ভবনে ঢোকার আগে তাদের জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করানো হতো।
তিরাউই জানান, ওই দুই ব্যক্তিকে মানব টোপ বা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার পর হত্যা করা হয়। ইসরাইলি সেনাসদস্যরা বেইত লাহিয়া থেকে দুই ফিলিস্তিনি বৃদ্ধকে অপহরণ করে হত্যার আগে দীর্ঘদিন মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিরাউই জানিয়েছিলেন যে, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কেফির ব্রিগেডের ৯২তম ব্যাটালিয়নের সেনারা বেইত লাহিয়া থেকে ওই দুই ফিলিস্তিনিকে তুলে নিয়ে যায় এবং বেশ কিছুদিন ধরে মানবঢাল হিসেবে আটকে রাখে। আল-তাওয়াম গোলচত্বরের কাছে ছেড়ে দেওয়ার আগে ওই দুই ব্যক্তিকে বেশ কিছুদিন আটকে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার তিন দিন পর তাদের স্বজনরা লাশগুলো খুঁজে পান।
ইসরাইলি সেনারা বিস্ফোরক বা যোদ্ধা রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করতে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জোর করে বাড়ি ও সুড়ঙ্গের ভেতর পাঠাতো। জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাসদস্যদের আগে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করানো মানবঢাল ব্যবহারের শামসুল এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বেসামরিক নাগরিক, বন্দী ও নিহতদের লাশের প্রতি অমানবিক আচরণের এসব অভিযোগ গাজায় ইসরাইলি কার্যক্রমের ওপর আন্তর্জাতিক তদন্ত ও চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


