আকাশে ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বাণিজ্যিক বিমানের ককপিটের ভেতর দুই পাইলটের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বিমানের ভেতর চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের মধ্য থেকে অন্য পাইলটদের সহায়তায় বিমানটিকে সৌদির তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
‘টাইমস অফ ইসরাইল’ ও ‘চ্যানেল ১২’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুবাই থেকে ইসরাইলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ‘এফজেড ১০৭৩’ বিমানটিতে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন। ওড়ার কিছু সময় পরই বিমানের ককপিটের ভেতরে দুই পাইলটের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই দুই পাইলটই ওমানের নাগরিক।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে এক পাইলট অপরজনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। ককপিটের ভেতরে ধস্তাধস্তির সেই আওয়াজ ও চিৎকার যাত্রীদের কানে পৌঁছালে এক যাত্রী ককপিটের দরজা খুলে দেখেন, এক পাইলট মেঝেতে পড়ে আছেন এবং চারপাশ রক্তে ভেসে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই পাইলটের এই মারামারির মধ্যেই হামলাকারী পাইলট বিমানটিকে ক্র্যাশ বা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিলেন এবং আত্মহত্যার হুমকিও দেন। অন্য পাইলট তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এই ধস্তাধস্তির কারণে বিমানটি মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে হুড়মুড় করে ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ককপিটের ভেতর থেকে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) কাছে প্রথমে সাধারণ জরুরি অবস্থার কোড ‘৭৭০০’ এবং এর পরপরই বিমান ছিনতাই বা অবৈধ হস্তক্ষেপের সংকেতবাহী কোড ‘৭৫০০’ পাঠানো হয়। এর ফলে বড় ধরনের হাইজ্যাকিংয়ের আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। ইসরায়েলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই সময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে ২০০১ সালের আমেরিকার ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার’ হামলার মতো ভয়াবহ কিছু ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
সৌভাগ্যবশত, বিমানের যাত্রীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পেশাদার পাইলট উপস্থিত ছিলেন। তারা দ্রুত ককপিটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং বিমানটিকে নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান।
বিমানটি নিরাপদে মাটিতে নামার পর যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন এবং অনেকে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। এই ঘটনার একটি ভিডিও এরইমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে।
প্রাথমিকভাবে বিমান অপহরণের আশঙ্কা করা হলেও পরবর্তীতে ইসরাইলি ও সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ জানিয়েছে, এটি কোনো পরিকল্পিত বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা ছিল না, বরং ককপিটের ভেতরে পাইলটদের মধ্যকার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


