ইরান ইস্যুতে কানাডার দ্বৈত নীতি, বাড়ছে বৈশ্বিক ঝুঁকি

আমার দেশ অনলাইন

ইরান ইস্যুতে কানাডার দ্বৈত নীতি, বাড়ছে বৈশ্বিক ঝুঁকি
ছবি: সংগৃহীত।

ইরানকে ঘিরে কানাডার অবস্থান নিয়ে নতুন করে সমালোচনা উঠেছে, যেখানে একদিকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের কথা বলা হলেও অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পদক্ষেপে পরোক্ষ সমর্থনের অভিযোগ উঠছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সম্প্রতি ডাভোসে দেওয়া ভাষণে মানবাধিকার, সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়ভিত্তিক নতুন বিশ্বব্যবস্থা গঠনের আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করেন, বর্তমান বিশ্বে বড় শক্তিগুলোর কর্মকাণ্ডে কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোকে একত্র হয়ে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তবে সমালোচকরা বলছেন, বাস্তবে কানাডার নীতি সেই ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইরান ইস্যুতে কানাডা একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী’ বলে ইঙ্গিত করেছে, অন্যদিকে আবার এসব পদক্ষেপের প্রতি সমর্থনও জানিয়েছে যা নীতিগত দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কানাডা সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও মিত্রদের পাশে থাকার অবস্থান বজায় রেখেছে এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে।

সমালোচনার একটি বড় দিক হলো, কানাডার এই অবস্থান শুধু ইরান নয়—ভেনেজুয়েলা, কিউবা, গাজা ও লেবাননের মতো বিভিন্ন ইস্যুতেও পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রতি একই ধরনের নীরব সমর্থন বা নির্বাচিত প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থাকে দুর্বল করে এবং বৈশ্বিক সংঘাত আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ, একদিকে আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মের কথা বলা হলেও অন্যদিকে সেই নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রতিক্রিয়া না দিলে তা বিশ্বব্যবস্থায় বিভাজন তৈরি করে।

বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে যে ‘রুলস-বেইজড অর্ডার’ বা নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে, এবং এতে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোর ভূমিকাও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...