ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি, বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মকাণ্ড ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা মেঘমল্লার বসু আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গত সোমবার রাতে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেন, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার কারণে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন তিনি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি হওয়ায় কেবিনে নেওয়া হয়েছিল। পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
জানা গেছে, রাজনীতি, পারিবারিক বিষয়সহ নানা হতাশা থেকে মেঘমল্লার বসু আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এর আগে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই পোস্ট দেখেই তার খোঁজ শুরু করেন সহকর্মীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদ গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মেঘমল্লারের ফেসবুক পোস্ট দেখে তার সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করা হয়। পরে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে খোঁজ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি গেটের কাছে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
মেঘমল্লার বসু নিজের ফেসবুক সুইসাইড নোটে লিখেন, ‘জীবনটা একটা বৃত্তের মতো। অনেক ঘুরে, অনেক কিছু করে নিজেকে আবার শূন্যে আবিষ্কার করার মতো। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, দুইটা আলাদা আলাদা টাইম স্প্যানের যেকোনো একটা সময় মরে গেলে খুব ভালো হতো। একটা ২০২০ সালের গোড়ায়, আমার শেষ বাংলা বিতর্কের দিন, গভর্নমেন্ট সায়েন্স কলেজের ফাইনালটার পরে। আরেকটা মনে হয় গত বছর এরকম একটা সময়। ডাকসু নির্বাচনের পর। দুইটা সময়ই আমি অনেক পূর্ণ ছিলাম। যখন মানুষ পূর্ণ থাকে তখন সে ভুলে যায় শূন্যতাই তার নিয়তি।’
তিনি আরো লেখেন, ‘আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হতাশা আর অপরাধবোধ ছাড়া আমার আর কিছুই নেই। আমি সবচেয়ে বড় অপরাধ করছি আমার মায়ের সঙ্গে। আমি জানি তার আর কেউ নেই। অথচ তাও আমি এই পথ বেছে নিচ্ছি। কী করব! কোনোভাবেই তো এই চক্র থেকে বের হতে পারছি না। আর কত দিন সম্ভব? আমি জানি আপনারা আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন। আপনারা পারলে আমার মাকে একটু বাঁচায়ে রাইখেন। মিশু ভাই, নূর আপু, আরাফাত ভাই, উৎপল দা, নিমাই কাকু এরা সবাই মিলে কত চেষ্টা করল আমারে বাঁচায়ে রাখার। আমি সবাইকে ব্যর্থ করে দিয়ে যাচ্ছি।’
মেঘমল্লার লেখেন, আপনাদের সবার প্রতি একটা একান্ত অনুরোধ হলো আমার প্রাক্তন প্রেমিকা চূড়াকে যেন কোনোভাবেই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী করা না হয়। আমাকে জীবনে কোনো মানুষ এত ভালোবাসা দেয়নি, যতটা তিনি দিয়েছেন। আমার গত অ্যাটেম্পটের পর সবাই ভেবেছে দোষ তার। তিনি একটি ভিলেনে পরিণত হয়েছেন। অথচ বাস্তবতা হলো আমি তাকে যত ইনসিকিউরিটি অনুভব করিয়েছি, তাতে তার দশবার অ্যাটেম্পট করার কথা ছিল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


