যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর ‘নরক নামিয়ে আনার’ হুমকি দেন। আর এরপরই ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করতে শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে মরিয়া হয়ে পড়েন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। খবর ডেইলি মেইলের।
রোববার গভীর রাতে জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সম্ভাব্য শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়। পরিকল্পনায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আরো আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, মঙ্গলবার রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম)-এর মধ্যে যদি ইরান কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে তিনি বেসামরিক অবকাঠামোসহ দেশের “সবকিছু ধ্বংস করে দেবেন”।
তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনার পরও হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম এবং প্রস্তাবটি এখনো প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পায়নি।
এই গোপন আলোচনায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সমন্বয় করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অংশ নেন জেডি ভ্যান্স ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, আর ইরানের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের জবাবে নিজেদের অবস্থান ও দাবি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে। তবে সরকারের এক কর্মকর্তা বলেছেন, চলমান আলোচনা “চূড়ান্ত সতর্কবার্তা ও যুদ্ধাপরাধের হুমকির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
অন্যদিকে, একটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলে পুনরায় খুলবে না এবং ট্রাম্পের চাপ বা সময়সীমাও মেনে নেবে না।
দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্যও স্পষ্ট। ইরান দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করুক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

