জোটেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড

৭১ বছর বয়সেও রিকশা চালান মোহাম্মদ উল্লাহ

৭১ বছর বয়সেও রিকশা চালান মোহাম্মদ উল্লাহ
ছবি: আমার দেশ

রামগঞ্জ পৌর শহরের একমাত্র পায়ে চালানো রিকশাওয়ালা মোহাম্মদ উল্লাহ। চোখে মুখে হতাশার ছাপ, রোগে শোকে শরীর কায়ক্লিষ্ট, জীর্ণশীর্ণ চেহারা।

সন্ধ্যা নামতেই লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌর শহরের সোনাপুর চৌরাস্তার রিকশাস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়ান ৭১ বছর বয়সী মোহাম্মদ উল্লাহ।

বিজ্ঞাপন

চারপাশে সারি সারি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভিড়ে এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকে বহু বছরের পুরোনো, জরাজীর্ণ একটি পায়ে চালানো রিকশা নিয়ে মোহাম্মদ উল্লাহর অপেক্ষা।

যাত্রীদের বেশির ভাগই দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় উঠে পড়েন। আর মোহাম্মদ উল্লাহ চুপচাপ অপেক্ষা করেন- হয়তো কোনো একজন যাত্রী তার রিকশায় উঠবেন। কিন্তু অধিকাংশ যাত্রীই তাকে হতাশ করেন।

পায়ে চালিত রিকশার মতো ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ শরীরের দিকে চেয়ে কোনো যাত্রীই তার রিকশায় উঠতে চান না। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় নাই।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর ভাদুর ইউনিয়নের পূর্ব ভাদুর তফাদার বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ উল্লাহ। সংসারে স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। বড় ছেলে ঢাকার একটি রঙের দোকানে চাকরি করেন। কিন্তু সেই আয়ে সংসার চলে না। বয়সের ভার কাঁধে নিয়েও এখনো রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে জীবিকা খুঁজে বেড়ান তিনি।

প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ বছর ধরে পায়ে চালানো রিকশা চালাচ্ছেন মোহাম্মদ উল্লাহ। তিনি জানান, তার মতো ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় হয়তো দু-একজন এমন রিকশাচালক চালাচ্ছেন । তবে রামগঞ্জ পৌর শহরে এখন তিনিই একমাত্র প্যাডেলচালিত রিকশাচালক। গত দুই-তিন বছরে শহরে আর কাউকে পায়ে চালিত রিকশা চোখে পড়েনি।

মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, আগে পায়ে চালানো রিকশার অনেক কদর ছিল। এখন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কারণে মানুষ আর পায়ে চালিত রিকশায় উঠতে চায় না। সবাই দ্রুত গন্তব্যে যেতে চায়।

দিনের বেলায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার সংখ্যা বেশি থাকায় সন্ধ্যার পর রিকশা নিয়ে বের হন তিনি। রাত ১১টা কিংবা ১২টা পর্যন্ত সোনাপুর চৌরাস্তার রিকশা স্ট্যান্ডে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকেন। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় হয়। তবে টানা বৃষ্টি আর ভাঙাচোরা সড়কের কারণে এখন সেই আয়ও কমে গেছে।

তিনি বলেন, বয়স বাড়ছে শরীরের শক্তিও কমে যাচ্ছে। আগের মতো আর চালাতে পারি না। তারপরও না বের হলে সংসার চলবে কিভাবে? পান না সরকারি কোন ভাতা । তবে অনেক যাত্রী তার কষ্টের কথা বুঝে মাছ সবজি কিনে দেন, আবার কেউ কেউ নগদ কিছু টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। এসব সহায়তাই অনেক সময় তার পরিবারের জন্য বড় আশীর্বাদ হয়ে আসে।

একই স্ট্যান্ডে থাকা অটোরিকশাচালক মো. খোরশেদ বলেন, মোহাম্মদ উল্লাহ চাচা ভালো মানুষ। অনেক বছর ধরে পায়ে চালানো রিকশা চালাচ্ছেন। তার যাত্রী কম থাকে। তাই আমাদের কাছে যাত্রী এলে অনেক সময় আমরা অনুরোধ করে চাচার রিকশায় তুলে দিই।”

এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, উনার বয়স প্রমাণে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে হবে। কারণ জাতীয় পরিচয়পত্রে উনার বয়স এখনো ৬৫ হয়নি, তাই বয়স্ক ভাতা দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা চেষ্টা করব উনাকে ভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন