অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি গ্রামে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ফিলিস্তিনি কিশোর ফুটবলার মারা গেছেন।
শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এরআগে, গত ১১ জুলাই তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
তার পরিবার ও স্থানীয় কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ফাদি হামদাল্লাহ আল-নাসান (১৭) ফিলিস্তিনের জাতীয় যুব ফুটবল দলের সদস্য ছিলেন। তিনি আল-মুঘাইয়ির ক্লাবের হয়েও খেলতেন।
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) জানিয়েছে, বসতিস্থাপনকারীরা গ্রামে হামলা চালানোর সময় ইসরাইলি বাহিনীর গুলি আল-নাসানের উরুতে লাগে। পরে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। সেই আঘাতের কারণেই তিনি মারা যান।
পিএফএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফাদির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৫৬৮ জন ফিলিস্তিনি ফুটবল অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
শনিবার কালো পোশাক পরা একদল মানুষ রামাল্লার প্যালেস্টাইন মেডিকেল কমপ্লেক্স থেকে তার লাশ নিয়ে নিজ গ্রাম আল-মুঘাইয়িরে যান। সেখানে তাকে দাফন করা হয়।
ফাদির বাবা বলেন, ‘হামলার সময় মেয়েদের চিৎকার শুনে আমার ছেলে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে গিয়েছিল এবং সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়।’
পশ্চিম তীরে ইসরাইলি তাণ্ডব
ফাদির মৃত্যুর দিনই ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের পৃথক দুটি স্থানে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারী ও বাহিনী ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এতে রামাল্লার কাছে জলপাই গাছ এবং নাবলুসের কাছে একটি পারিবারিক বাসস্থান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
রামাল্লার পশ্চিমে দেইর কাদ্দিস এলাকায় ইসরাইলি সেনারা জমি চাষ করতে থাকা ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর তাজা গুলি ও টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। এতে জলপাই বাগানে আগুন ধরে যায়। সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের ঘটনাস্থলে যেতে বাধা দেওয়ায় আগুন আরো ছড়িয়ে পড়ে।
এছাড়া নাবলুসের কাছে তাল শহরে একদল বসতিস্থাপনকারী একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সেটি পুরোপুরি ধ্বংস করে।
নিয়মিত অভিযান
একই দিনে ইসরাইলি বাহিনী জেনিনের কাছের ইয়াবাদ ও মিথলন শহরের বাড়িঘরে অভিযান চালায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রতিদিনের যে আগ্রাসন ও বসতিস্থাপনকারীদের তাণ্ডব চলে, এটি তারই অংশ।
১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর তেল আবিবের দখলে রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হলেও সেখানে ইসরাইলি বসতি স্থাপন কার্যক্রম ক্রমাগত বাড়ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘ পশ্চিম তীরে ইসরাইলের এই নীতিকে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা বা ‘অ্যাপার্টহাইড’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

