হামাস অস্ত্র সমর্পণ করলে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে—এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের যে পরিকল্পনা সামনে এসেছে, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটি।
তবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে। মূল বিরোধ দেখা দিয়েছে একটি প্রশ্নে—কে আগে পদক্ষেপ নেবে?
হামাস জানিয়েছে, তারা নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে প্রস্তুত। তবে তাদের শর্ত হলো, গাজা থেকে আগে ইসরাইলি সেনাদের প্রত্যাহার করতে হবে। এরপর অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
অন্যদিকে ইসরাইলের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, হামাসকে আগে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র হতে হবে।
তাদের ভাষায়, ‘নিরস্ত্রীকরণ’ বলতে অস্ত্র ছেড়ে দেওয়া বোঝায়। এর কম কিছু গ্রহণযোগ্য নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এরপর ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে গাজায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। ইসরাইলি বাহিনীর জায়গায় আন্তর্জাতিক বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে। তবে তার আগে হামাসের অস্ত্র সমর্পণ এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ইসরাইল বলছে, হামাস সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের সেনারা গাজা ছাড়বে না। অন্যদিকে হামাসের অবস্থান হলো, ইসরাইলি সেনাদের আগে সরে যেতে হবে। এরপর তারা অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।
ফলে ট্রাম্পের পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি এখন দুই পক্ষের অবস্থানের মাঝখানে আটকে আছে। এক পক্ষ চাইছে আগে অস্ত্র সমর্পণ, অন্য পক্ষ চাইছে আগে সেনা প্রত্যাহার।
এখন প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প কীভাবে এই বিরোধ মিটিয়ে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন? হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার—দুটি পদক্ষেপের কোনটি আগে হবে, নাকি একই সঙ্গে দুটির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে, সেটিই চূড়ান্ত সমঝোতার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

