ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার আগে আলোচনায় না থাকলেও বর্তমানে যুদ্ধ বন্ধে দরকষাকষির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি। হামলার পর তেহরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে কেবল ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করতে পারছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরির পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার হুমকি দিলেও ইরানকে হরমুজ
প্রণালি খুলতে বাধ্য করতে পারেননি। বরং ইরান দাবি করছে, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতেও তারা এ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে নিয়মিত টোল আদায় করবে।
অন্যদিকে, কিছুদিন আগে ওয়াশিংটনও হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজগুলোর ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরান যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি স্বাক্ষর করলেই কেবল এ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। তবে অবরোধ প্রত্যাহার না করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তেহরান। সম্প্রতি পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধ বন্ধে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও পারমাণবিক ইস্যুটি পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। ফলে এ প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসন গ্রহণ করবে না বলে জানা গেছে। খবর বিবিসি, আলজাজিরা ও সিএনএনের।
মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানি অর্থ মুক্ত করা এবং দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারই ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রধান এজেন্ডা। তবে বর্তমানে হরমুজ প্রণালিই আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, ইরান এ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।
এ পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসন ও উপসাগরীয় দেশগুলোকে এক ধরনের দ্বিমুখী সংকটে ফেলেছে। একদিকে অবরোধ বজায় রাখার উচ্চব্যয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপে যেতে আগ্রহী নয়; অন্যদিকে ইরানের শর্ত মেনে নেওয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ।
ইরানের নতুন প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প
যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না থাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তোস প্রকাশ করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প এ প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বসে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করেন। তবে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
দুই মাস পর হরমুজ পাড়ি দিল এলএনজিবাহী ট্যাংকার
ইরান যুদ্ধের ফলে বন্ধ হওয়ার দীর্ঘ দুই মাস পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজিবোঝাই একটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। জাহাজ ট্র্যাকিং কোম্পানি ‘কিপলার’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। কিপলারের তথ্যানুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানি অ্যাডনক পরিচালিত ‘মুবারক’ নামের ট্যাংকারটি এক লাখ ৩৩ হাজার ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাস আইল্যান্ড থেকে গত ২ মার্চ যাত্রা শুরু করে। এরপর দীর্ঘ দুই মাস বিরতি দিয়ে অবশেষে গন্তব্যের উদ্দেশে এই নৌপথ পাড়ি দেয় জাহাজটি।
এদিকে কিপলারের তথ্যমতে, ১ মার্চ থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ৭০টির বেশি জাহাজ ছেড়ে গেছে, যার বড় একটি অংশ ইরানের বন্দর থেকে যাত্রা করে।
অন্য দেশের ওপর নীতি চাপিয়ে দেওয়ার অবস্থানে নেই যুক্তরাষ্ট্র : ইরান
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর স্বাধীন দেশগুলোর ওপর তার নীতি চাপিয়ে দেওয়ার অবস্থানে নেই। তিনি আরো বলেন, ওয়াশিংটনকে এটা মেনে নিতে হবে যে, ইরানের কাছে চাওয়া অবৈধ এবং অযৌক্তিক দাবিগুলো বাদ দেবে তারা।
ওপেক এবং ওপেক প্লাস জোট থেকে পদত্যাগ করল আরব আমিরাত
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ওপেক এবং ওপেক প্লাস জোটের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছে। আগামী ১ মে থেকে এ পদত্যাগ কার্যকর হবে। আমিরাতের এ পদক্ষেপ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট এবং এই জোটের প্রকৃত নেতা সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, এমন এক সময় আমিরাত এ সিদ্ধান্ত নিল, যখন ইরান যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থির করে তুলেছে। যদিও দেশটি বলছে, নিজেদের স্বার্থে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যতটা ভাবা হয়েছিল, হিজবুল্লাহর ততটা দুর্বল হয়নি
২০২৪ সালের নভেম্বরে যখন ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, তখন ধারণা করা হয়েছিল গোষ্ঠীটি তাদের শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। সে সময় লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর তীব্র হামলায় গোষ্ঠীটির দীর্ঘদিনের সেক্রেটারি জেনারেল হাসান নাসরুল্লাহসহ শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশই নিহত হয়েছিল। পাশাপাশি ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযানও শুরু করে। তবে হিজবুল্লাহ এখন আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে এসেছে এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে। বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, গোষ্ঠীটিকে যতটা দুর্বল ভাবা হয়েছিল, তারা আসলে ততটা শক্তিহীন হয়ে পড়েনি।
এদিকে, দক্ষিণ লেবাননের বিনতে জবেইল জেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে সিডন জেলার দিকে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুই হাজার ৫২১ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অন্তত সাত হাজার ৮০৪ জন আহত হয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ অধিকার ইরানের আছে : রাশিয়া
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ অধিকার ইরানের আছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভণ্ডামি’ ও ‘জলদস্যুতার’ অভিযোগ তোলেন তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

