যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ী। তিনি বলেছেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে এ কাগুজে চুক্তি সৌদি আরবকে প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজায়ী লেখেন, বছরের পর বছর একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করেও সৌদি যেমন নিরাপত্তা পায়নি। একইভাবে এ চুক্তিও তাদের নিরাপত্তা দেবে না। তিনি আরো দাবি করেন, সৌদি আরব যদি নিজেদের নীতিতে পরিবর্তন আনে, তাহলে অন্য দেশের কাছে নিরাপত্তার জন্য ‘অনুরোধ করতে হবে না।
এর আগে বৃহস্পতিবার সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নামে একটি সমঝোতায় স্বাক্ষর করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধ, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সংকট এবং হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে নৌপরিবহন বিঘ্নিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ চুক্তি করা হয়। ইসলামের পবিত্র শহর মক্কায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। সেখানে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এ চুক্তির লক্ষ্য যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করা এবং তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সব ক্ষেত্র আরো বিস্তৃত করা। এতে উল্লেখ করা হয়, তিন দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন, ইসলামি সংহতি এবং অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতেই এ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও তেল স্থাপনাগুলো অতীতে ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং ইরাকভিত্তিক মিলিশিয়াদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে। সে প্রেক্ষাপটে নতুন এ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


