সিরিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত আসাদ ও তার মিত্রদের বিচার শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সিরিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত আসাদ ও তার মিত্রদের বিচার শুরু

আরব বসন্তের জেরে ২০১১ সালে সিরিয়ায়ও শুরু হয়েছিল সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। ক্ষমতাসীন বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ সরকার সশস্ত্র পন্থায় নির্মমভাবে দমন করতে চাইলে তা রূপ নেয় গৃহযুদ্ধে। ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর পতন হয় আসাদ সরকারের।

ক্ষমতাচ্যুত শাসক বাশার আল-আসাদ ও তার সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের প্রথম বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে সিরিয়া। রোববার সকাল ১১টায় রাজধানী দামেস্কে আদালতে প্রকাশ্য শুনানি শুরু হয়। এদিন অভিযুক্তদের মধ্যে মাত্র একজনই উপস্থিত ছিলেন। তিনি হলেন আসাদের খালাতো ভাই এবং দেশটির সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আতেফ নাজিব। তিনি দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান ছিলেন। নাজিবকে হাতকড়া পরা অবস্থায় আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে আল-হামিদিয়া বাজারের কাছে অবস্থিত প্যালেস অব জাস্টিসের বিচারকক্ষের মাঝখানে একটি খাঁচায় তাকে রাখা হয়।

বিজ্ঞাপন

২০১১ সালে নাজিব রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান থাকাকালে দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের একটি স্কুলের দেয়ালে সরকারবিরোধী গ্রাফিতি আঁকার জন্য কিশোরদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়েছিল। এই ঘটনাটি আল-আসাদ সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর দমনমূলক নীতির বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের অনুঘটক হয়ে ওঠে, যা পরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। সেই বিক্ষোভ দমন করতে সরকার কঠোর অভিযান চালালে তা দীর্ঘ ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। তার বিরুদ্ধে সেখানে ব্যাপক দমনপীড়ন ও গ্রেপ্তার অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অধিবেশন শুরুর সময় বিচারক ফখর আল-দিন আল-আরিয়ান ঘোষণা করেন, ‘আজ আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম বিচার কার্যক্রম শুরু করছি। এই বিচারিক কার্যক্রমের মধ্যে কাঠগড়ায় উপস্থিত একজন আসামি এবং পালিয়ে যাওয়া অন্য আসামিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিচারিক সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে আসাদ, তার ভাই ও নাজিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলো।

আসাদ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার হন নাজিব। দামেস্কের আদালতে যখন তাকে হাজির করা হয়, তখন তার পরনে ছিল কয়েদির ডোরাকাটা পোশাক।

ক্ষমতাচ্যুতির পর রাশিয়ায় পালিয়ে যান আসাদ। সেই সঙ্গে পালিয়ে যান তার বেশিরভাগ ঘনিষ্ঠ মিত্র।

১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে দেশটির পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে আরো কয়েক লাখ মানুষ।

রোববারের এই অধিবেশনে নাজিবকে কোনো প্রশ্ন করেননি বিচারক। আগামী ১০ মে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন বিচারক।

বিচারিক সূত্র জানিয়েছে, সশরীরে উপস্থিত থেকে যাদের বিচার করা হবে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের আরেক আত্মীয় ওয়াসিম আল-আসাদ, সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আহমেদ বদরুদ্দিন হাসুন এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নতুন কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন