লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এক বছরেরও বেশি সময় পর বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। আঞ্চলিক যুদ্ধ, লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান এবং দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরাইলের অব্যাহত উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনঃস্থাপন ও সহযোগিতার লক্ষ্যেই এই সফর।
বৈঠকে আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল সীমান্ত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি। দীর্ঘদিন ধরে লেবানন ও সিরিয়ার মধ্যে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। বিশেষ করে সিরিয়া একসময় ইরান ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংযোগকারী স্থলপথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে আসাদ সরকারের পতনের পর এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে কমেছে।
বিগত কয়েক মাসে সিরীয় কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করে টানেল বা সুড়ঙ্গ ধ্বংস এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
তাদের দাবি, এসব সুড়ঙ্গ লেবাননে অস্ত্র পাচারের জন্য ব্যবহৃত হতো।
এছাড়া গত সপ্তাহে সিরীয় সরকারের ওপর হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ‘হিজবুল্লাহ সেল’-এর একাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে দেশটি। গত মাসেও ইসরাইলে রকেট হামলার প্রস্তুতির সময় হিজবুল্লাহর কিছু সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে সিরিয়া ও লেবানন সরকার একই অবস্থানে রয়েছে।
নিরাপত্তা ছাড়াও বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং বন্দিবিনিময় নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে লেবাননে ২ হাজারেরও বেশি সিরীয় নাগরিক বন্দি রয়েছেন, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদে’র অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া লেবাননে আশ্রিত সিরীয় শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন ইস্যুও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। যুদ্ধের কারণে অনেকে ফিরে গেলেও এখনো ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত সিরীয় নাগরিক লেবাননে অবস্থান করছেন।
সূত্র: আলজাজিরা
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


