গাজা থেকে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর বেসামরিক শাসনব্যবস্থা বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে হামাস। তারা তাদের যাবতীয় প্রশাসনিক দায়িত্ব ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ নামের একটি নতুন কমিটির কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা গাজার শাসনব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আনবে। তবে হামাসের এই ঘোষণার পরও গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
সোমবার দিনভর পুরো গাজা উপত্যকা জুড়ে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত ছিল। চিকিৎসকদের সূত্র অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক দম্পতি রয়েছেন, যাদের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ইসরাইলি রকেট আঘাত হানলে তারা মারা যান।
হামাসের এই নতুন প্রস্তাবটি বেশ কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই ন্যাশনাল কমিটি কীভাবে গঠিত হবে, কারা এটি তদারকি করবে এবং এটি আন্তর্জাতিক ও ব্যাপক জনসমর্থন পাবে কি না—তা এখনো অস্পষ্ট। গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো আলোচনা বা চুক্তিতে এই বিষয়গুলো প্রধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘোষণার মাধ্যমে ইঙ্গিত মিলছে যে হামাস গাজার সরাসরি শাসনভার থেকে সরে দাঁড়াতে ইচ্ছুক। তবে এটি কি আসলেই ক্ষমতার প্রকৃত হস্তান্তর, নাকি চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার একটি অংশ—তা এখনো নিশ্চিত নয়। এটি শুধু হামাসের ওপর নির্ভর করছে না, বরং যুদ্ধবিরতি আলোচনার ফলাফল এবং ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপরও নির্ভর করছে।
এদিকে গাজার সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জন্য ভবিষ্যতের এই রাজনৈতিক বিতর্কগুলো চলছে সামরিক অভিযানের চরম হুমকির মুখেই। বিমান হামলা, উচ্ছেদ এবং তীব্র মানবিক সংকটের মধ্য দিয়েই কাটছে তাদের বাস্তব জীবন, যা এখনো কোনো রাজনৈতিক প্রস্তাব সমাধান করতে পারেনি।
সূত্র: আল-জাজিরা
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

