ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের পরিবর্তে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে সরকার গঠনকে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন ফিলিস্তিনিরা। তবে এমন সরকারও ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। ইসরাইলে আরব সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন আদালাহর প্রতিষ্ঠাতা ও মহাপরিচালক হাসান জাবারিন এ কথা বলেছেন।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসান জাবারিন বলেন, নেতানিয়াহুর সরকার ছাড়া অন্য যেকোনো সরকারই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য। গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে জোট সরকার গঠনকে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘তুলনামূলকভাবে কম খারাপ’ বিকল্প বলে উল্লেখ করেন।
ইসরাইলে আরব সংখ্যালঘুদের অধিকারবিষয়ক স্বাধীন মানবাধিকার সংগঠন ও আইনি কেন্দ্র আদালাহ। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা জাবারিনের দাবি, নির্বাচনে পাওয়া আসনের হিসাব অনুযায়ী গাদি আইজেনকটই জয়ী হয়েছেন।
তিনি বলেন, আইজেনকটের জোট এবং আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো মিলিয়ে পার্লামেন্টে ৬৭টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছে ৫৩টি আসন। মোট আসনের প্রায় ৫৬ শতাংশ রয়েছে আইজেনকটের পক্ষে। তাই তারই সরকার গঠন করা উচিত।
তবে জাবারিনের মতে, ইসরাইল একটি বর্ণবাদী রাষ্ট্র। দেশটি সংখ্যালঘুদের বাদ দিয়ে রাখে। এ কারণে আইজেনকটের মিত্রদের পক্ষে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের কথা প্রকাশ্যে বলা কঠিন। আইজেনকটের সরকার গঠনের আগ্রহের মধ্য দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জাবারিন বলেন, ফিলিস্তিনিরা এমন কোনো সরকার চান না, যারা তাদের ওপর দখলদারত্ব অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে যারা তাদের সঙ্গে বৈষম্য করে, এমন লোকদের সঙ্গে সরকার পরিচালনাও তারা চান না। তবে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারও ফিলিস্তিনিদের স্বপ্নের সরকার নয়।
সম্ভাব্য সরকার নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জাবারিন বলেন, তাদের সামনে একদিকে রয়েছে ‘অপরাধীদের নেতৃত্বাধীন সরকার’, অন্যদিকে এমন একটি সরকার, যারা সম্ভবত দখলদারত্ব অব্যাহত রাখবে এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বৈষম্য করবে। তবে অন্তত সেই সরকারে নেতানিয়াহু থাকবেন না।
নেতানিয়াহুর অধীনে চার বছর শাসন চলার পর ফিলিস্তিনিরা অন্য যেকোনো সরকারকেই পছন্দ করবেন বলে মন্তব্য করেন জাবারিন। তার ভাষায়, ‘আমরা অন্য যেকোনো সরকারকেই পছন্দ করি।’
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

