টাঙ্গাইলের বাসাইলে আলোচিত অপহরণের ২৭ দিন পর এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় অপহরণের মূল হোতা কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইমন মিয়াকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ইমনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার ভোরে ঢাকার দক্ষিণখান কসাইবাড়ি এলাকা থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত ইমন মিয়া বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের কলিয়া মধ্যপাড়া এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে।
এ ঘটনায় মামলার আসামি ইমনের বাবা ইদ্রিস আলী মিয়া, মা নাজমা বেগম ও বড় বোন ছাবিনা আক্তার পলাতক রয়েছেন। অপহরণের শিকার ওই ছাত্রী বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে ইমন ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি ইমনের পরিবারকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। গত ৪ আগস্ট বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে মামলার আসামি ইদ্রিস আলী, নাজমা বেগম ও ছাবিনা আক্তারের সহযোগিতায় ইমন ওই ছাত্রীকে অজ্ঞাত একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে অপহরণ করে।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বাসাইল থানা পুলিশকে জানানো হয়। এরপর থেকে পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধারে তৎপরতা চালায়। গত ১০ আগস্ট ইমন মিয়াকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। মামলার পর পুলিশ ও র্যাব মাঠে নামে।
স্থানীয়দের অভিযোগ—ইমন একটি কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীসহ পর্যটন এলাকা বাসুলিয়ায় নারীদের উত্ত্যক্ত করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় মারামারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তিনি মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারি হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, ‘অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারের পর ঢাকার দক্ষিণখান থানা পুলিশ মামলার প্রধান আসামি ইমনকে গ্রেপ্তার করে। ইমনকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই ছাত্রীর শারীরিক পরীক্ষা ও জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

