কক্সবাজারে সাবেক ছাত্রদল নেতা অ্যাডভোকেট আল আমিনের বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে আবাসিক রিসোর্ট দখলের অভিযোগ উঠেছে। শহরে জমি দখল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ফেসবুকে সাংবাদিকদের নিয়ে কটূক্তি করে স্ট্যাটাস দেওয়ার এক দিনের মধ্যেই এ অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পাঁচজনের নামে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আল আমিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলায় কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য বদরুল হাসান মিল্কীকেও আসামি করা হয়েছে।
রাতের আঁধারে আবাসিক রিসোর্ট দখলের অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে মাহফুজ শাকিল (৪০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি জেলার উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং এলাকার শামশুদ্দিনের ছেলে।
সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রিসোর্ট মালিকের স্ত্রী ইসরাত জাহান চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সাবেক ছাত্রদল নেতা আল আমিনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি গভীর রাতে ‘নকশী রিসোর্ট’ নামের আবাসিক হোটেলটি দখল করে নেন।
বাদী দাবি করেন, ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে আসামিরা প্রথমে তার মালিকানাধীন মিল্কী রিসোর্টের চারটি ফ্ল্যাট ও নিচতলার ৮০০ বর্গফুটের একটি দোকান দখলে নেন। পরে রাত ৩টার দিকে ১০ থেকে ১২ জন এসে লাইট হাউস এলাকায় তার মালিকানাধীন ‘নকশী’ নামের আরেকটি রিসোর্টও দখল করে নেন।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় মাহফুজ শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রিসোর্ট মালিক থানায় কোনো অভিযোগ জানাননি। পরে ৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার মাহফুজ শাকিল মামলার ২ নম্বর আসামি।
এদিকে নকশী রিসোর্টের মালিক আব্দুর রশিদ চৌধুরী জানান, জামায়াত নেতা মাওলানা আলমগীরের ছেলে আল আমিনকে তিনি মিল্কী রিসোর্টের চারটি ফ্ল্যাট ও একটি দোকান ভাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু আল আমিন ভাড়া পরিশোধ না করে ফ্ল্যাট ও দোকান দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ তার।
আব্দুর রশিদ দাবি করেন, ফ্ল্যাট ও দোকান দখল করে রাখার পরও আল আমিন তাকে ছিনতাই, ধর্ষণসহ বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যাডভোকেট আল আমিন। তিনি আব্দুর রশিদকে প্রতারক দাবি করে বলেন, নকশী রিসোর্টের জমির মালিক তিনি নন। তার দাবি, ওই রিসোর্ট ও জমির মালিক ছিলেন আবছার উদ্দিন চৌধুরী। তিনি মারা যাওয়ার পর আব্দুর রশিদ ভুয়া কাগজ তৈরি করে রিসোর্টটি দখল করেছেন।
আল আমিন আরো বলেন, আব্দুর রশিদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
এর আগে কক্সবাজার শহরে জমি দখল নিয়ে সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে কটূক্তি করে একটি স্ট্যাটাস দেন আল আমিন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি কক্সবাজারের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তোলেন।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

