ফতুল্লায় গুলিবিদ্ধ জুলাইযোদ্ধা রুহুল আমিনকে জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তা

ফতুল্লায় গুলিবিদ্ধ জুলাইযোদ্ধা রুহুল আমিনকে জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তা

জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন নারায়ণগঞ্জের জুলাইযোদ্ধা রুহুল আমিন। তিন কন্যার জনক রুহুল আমিনই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তবে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়ার পর থেকে তার পরিবারে নেমে এসেছে চরম আর্থিক সংকট। চিকিৎসা ব্যয় মেটানো তো দূরের কথা, সংসারের নিত্যদিনের খরচ চালাতেই এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।

বিজ্ঞাপন

অবশেষে এই জুলাইযোদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ। মঙ্গলবার রুহুল আমিনের হাতে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।

রুহুল আমিনের পরিবারের সদস্যরা জানান, তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মেয়েশিশুদের পড়াশোনা ও পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

আন্দোলনের সেই দিনের কথা স্মরণ করে রুহুল আমিন বলেন, দেশের মানুষের অধিকার ও ভবিষ্যতের জন্যই আন্দোলনে গিয়েছিলাম। কিন্তু গুলির আঘাতে আজ আমি কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি। তিনটি মেয়ে নিয়ে সংসারে আমিই ছিলাম একমাত্র উপার্জনকারী। এখন চিকিৎসার খরচ চালানো তো দূরের কথা, পরিবারের নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

চেক হস্তান্তরকালে রুহুল আমিনের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা রাজপথে থেকে দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। রুহুল আমিনের মতো আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী জুলাইযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের এগিয়ে আসা উচিত।

ভবিষ্যতেও রুহুল আমিনের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে—এমনটাই প্রত্যাশা তার পরিবারের। এতে একদিকে যেমন একজন জুলাইযোদ্ধার চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে তার তিন কন্যার ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন