কক্সবাজারের অন্যতম দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে চোর ধরতে গিয়ে অস্ত্র কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের মিঠাছড়ি এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযোগ ছিল, ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের রহমত উল্লাহ নামের এক চোর দীর্ঘদিন ধরে শাপলাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দোকান ও বসতবাড়িতে চুরি করে আসছিল। শুক্রবার রাতে ওই চোরকে স্থানীয় লোকজন পাকড়াও করে মহেশখালী থানা পুলিশকে খবর দেন। ওই খবর পেয়ে পুলিশ অভিযানে গেলে অস্ত্র তৈরির কারখানাটির সন্ধান পায়।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সুলতান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক রহমত উল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় সে জানায়, তার চুরি করা মালামাল মিঠাছড়ি এলাকার নমি উদ্দিন, ময়না ও শাবনূরের কাছে জমা রাখতো। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই মিঠাছড়ি এলাকায় অভিযানে নামে পুলিশ।
সূত্র মতে, অভিযানের একপর্যায়ে মোতাহেরা নামের এক নারীর বাড়িতে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম। সে সময় রহমত উল্লাহকে আটক করে পুলিশ।
অভিযানকালে মোতাহেরার ঘরের খাটের নিচ থেকে বন্দুকের বাট, ট্রিগার, ব্যারেলের অংশ, স্প্রিংসহ বিভিন্ন অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং ড্রিল মেশিন, গ্রাইন্ডার, করাতসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ওই সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে যায়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে গোপনে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিল।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সুলতান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত রহমত উল্লাহ চুরি ও অস্ত্রের কথা স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় মহেশখালী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

