সিরাজগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজন হত্যা মামলায় তার স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথিসহ দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—নিহত যুবদল নেতা সুজনের স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথি ও শাহজাদপুর উপজেলার মাধলা গ্রামের বিল্লাল ফকিরের ছেলে মনিরুল ফকির।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামসুজ্জোহা শাহানশাহ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলায় চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল পুলিশ। রায়ে দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিদের মধ্যে শুধুমাত্র মনিরুল ফকির আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথিপত্র ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মীরপুর বিড়ালাকুঠি মহল্লার গোলাম রহমানের মেয়ে উম্মে জামিলা তিথির সঙ্গে সেলিম রেজা সুজনের বিয়ে হয়। সেলিম রেজা সুজন পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করায় বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার আসামি ছিলেন। পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বাড়িতে নিয়মিত থাকতে পারতেন না। এই সুযোগে স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথি পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি বুঝতে পেরে সুজন তাকে অবৈধ সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করলে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দিন ২০১৫ সালের ১ জুন দুপুরে তার স্ত্রী বিষ মেশানো শরবত খেতে দেন তাকে। এরপর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। সন্ধ্যায় সুজনের স্ত্রী বোরকা পরে বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। কিছু সময় পর তিনি আবার ফিরে আসেন। রাত সোয়া ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘরের মধ্যে সুজনের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।
এ ঘটনায় নিহত সুজনের মা মাজেদা খাতুন বাদী হয়ে সুজনের স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথি ও তার ভাই পিয়াস হোসেনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে সিরাজগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

