ঢেলে সাজানো হচ্ছে এনসিপিকে

180
মাহফুজ সাদি

ঢেলে সাজানো হচ্ছে এনসিপিকে

বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন পুনর্গঠনের পর এবার ঢেলে সাজানো হচ্ছে তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি রূপান্তরিত হচ্ছে নির্বাহী কমিটিতে। আসছে কমিটিতে বর্তমান আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব তাদের পদে বহাল থাকছেন। তবে যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্য সচিব, মুখ্য সংগঠক এবং সমন্বয়কের পদগুলো বিলুপ্ত করে সম্পাদকীয় পদ সৃষ্টি করে পদায়ন করা হবে। এ ব্যাপারে এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পরিষদ এবং সবশেষ সাধারণ সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চলতি মাস কিংবা জুলাইয়ের প্রথমদিকে ঘোষণার মাধ্যমে কমিটি বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন কমিটি গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাইয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।

এনসিপির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা আমার দেশকে জানিয়েছেন, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির মতোই নির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে। সাংগঠনিক কাঠামোগত পরিবর্তন এনে বিভিন্ন ধরনের সম্পাদকীয়

বিজ্ঞাপন

পদ সৃষ্টি করা হবে। সেসব পদে যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্য সচিব, মুখ্য সংগঠক ও সমন্বয়কদের পদায়ন করা হবে। তবে বর্তমান আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদ এবং নেতৃত্ব ঠিক রাখা হবে। সাংগঠনিক সম্পাদক পদ ঠিক রেখে নেতৃত্বে কিছু পরিবর্তন আনা হবে। নতুন করে দলটির একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হবে, তবে রাজনৈতিক পরিষদ বহাল থাকবে।

তারা জানান, সম্প্রতি এনসিপির বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ঢেলে সাজানো হয়। এখন মূল দল পুনর্গঠন ও ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সেলকে দলটিতে একীভূত করে বিভিন্ন বিষয়ক সম্পাদক এবং সহসম্পাদক

পদ সৃষ্টি করে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এটাকে রিডিস্ট্রিবিউশন বা পুনর্বণ্টন বলা যায়; আবার পুনর্গঠনও বলা যায়। সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথমে অঙ্গ-সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো ঠিক করা হয়েছে। সেখানে অনেককে পদায়ন করা হয়েছে। তারপর রাজনৈতিক পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার আমার দেশকে বলেন, আমরা একটি সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। অঙ্গ ও সহযোগীসহ বিভিন্ন সংগঠনকে এরই মধ্যে পুনর্গঠন করা হয়েছে। দলকে আরো শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চাই আমরা। এর মধ্য দিয়ে জুলাই শক্তি আরো সংগঠিত হবে।

এনসিপির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক, একজন যুগ্ম সদস্য সচিব ও একজন সাংগঠনিক সম্পাদক জানিয়েছেন, বর্তমান কমিটিতে অনেকেই বিভিন্ন পদে রয়েছেন। কিন্তু তাদের তেমন কাজ নেই বা কাজ আলাদা করে নির্ধারিত নেই। তাদের বিভিন্ন সম্পাদক পদ দিয়ে কাজ দিয়ে দেওয়া হবে। যে যার কাজ করবেন। চলতি মাসের মধ্যে, অর্থাৎ জুলাইয়ের আগেই নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণার চেষ্টা চলছে। সামনের মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কমিটি ঘোষণা হয়ে যাবে। এর মধ্য দিয়ে দলের সাংগঠনিক কাজে গতি আসবে।

তারা আরো জানান, এনসিপিতে যারা যুক্ত হয়েছেন, তাদের অনেককে পদায়ন করা হয়েছে; বাকিদেরও নতুন কমিটিতে পদায়ন করা হবে। এছাড়া বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদ ঠিক থাকলেও কয়েকজনকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কমিটির অনেককে বিভিন্ন মহানগর ও জেলা কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হবে। এতে কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি মহানগর ও জেলা কমিটিগুলোও গতিশীল হবে এবং দল তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী হবে, যা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে।

এনসিপির ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার আমার দেশকে বলেন, নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি সাংগঠনিক বিস্তারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে দল পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

গত ১১ জুন এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদে ছয়জন নেতাকে যুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছাড়াও নতুন করে এনসিপিতে আসা নেতারা রয়েছেন। সম্প্রতি আরো দুই সংসদ সদস্যকে এ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার আগে দলটির মুখপাত্র ঘোষণা করে তাকে রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য করা হয়। ফলে এনসিপির ফোরামটির সদস্য সংখ্যা এখন ১৬।

তবে এ কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সারওয়ার নিভা। এছাড়া গত অক্টোবরে এনসিপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান ১০ কেন্দ্রীয় নেতা। তাদের দলের অন্য সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।

গত কয়েক মাসে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি ও আপ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং প্ল্যাটফর্ম থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এনসিপিতে যোগদান করেন। তৃণমূল পর্যায়ে এই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। জুলাইয়ের পক্ষে থাকা এসব নেতার মধ্য থেকে এরই মধ্যে আহ্বায়ক কমিটিতে অনেককে পদায়ন করা হয়েছে। আগামীতে তৃণমূলের কমিটিতেও তাদের মধ্যে থেকে অনেককে পদায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত শক্তি বাড়িয়ে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে সামনে আসতে চায় এনসিপি।

এনসিপির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী জুলাই মাসে। ফলে জুলাইজুড়ে এবং আগস্টের ৫ তারিখ পর্যন্ত অনেক ধরনের কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দল ঢেলে সাজিয়ে এবার গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী পালন করতে চায় এনসিপি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্টদের বিচার এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দাবিতে রাজপথের পাশাপাশি দেশব্যাপী নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন