দেশের কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ৫২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই বছর মেয়াদি বৃহৎ কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেতে প্রায় এক বছর সময় লেগেছে। ফলে আগামী জুনের মধ্যে কেনাকাটাসহ আনুষঙ্গিক সব কাজ সম্পন্ন করতে হবে। ডিপিপি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হলেই মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন কাজ শুরু করবে সংশ্লিষ্টরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, ডিপির অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির আওতায় দেশের ৬০টি উপজেলায় ‘মেকানাইজড হাব’ স্থাপন হবে। এই প্রকল্পের আওতায় কেনা হবে ২১৭৪টি আধুনিক কৃষিযন্ত্র। জাপান, ভিয়েতনাম ও চীনসহ পাঁচ দেশ থেকে যন্ত্র সংগ্রহ করা হবে। এর সংরক্ষণ ও মেরামতের জন্য রাজধানীর পার্শ্ববর্তী গাজীপুরে জাতীয় পর্যায়ের একটি কৃষিযন্ত্র ওয়ার্কশপ স্থাপন করা হবে।
সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) কৃষিবিদ মো. মঞ্জুর-উল-আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আমার দেশকে তিনি বলেন, দেশের কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণে স্বাবলম্বী করাই আমাদের লক্ষ্য। শুধু কৃষিযন্ত্র বিতরণ নয়, দক্ষ অপারেটর, মেকানিক ও স্থানীয় সার্ভিসিং ব্যবস্থা গড়ে তুলে এটি একটি টেকসই মডেল হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্প কৃষি যান্ত্রিকীকরণের একটি জাতীয় মডেল হিসেবে কাজ করবে।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের জন্য কেনা হবে ২১৭৪টি আধুনিক কৃষিযন্ত্র। এর মধ্যে রয়েছে কম্বাইন হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, রিপারসহ ধান চাষ ও ফসল সংগ্রহে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্র। এসব যন্ত্র কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করে উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬০টি উপজেলায় ৬০টি ‘মেকানাইজড হাব’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এসব কেন্দ্রে কৃষিযন্ত্র প্রদর্শন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণবিষয়ক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। স্থানীয় পর্যায়ে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া স্থানীয় যুবক ও কৃষকদের কৃষিযন্ত্র পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাদের দক্ষ মেকানিক ও অপারেটর হিসেবে গড়ে তুলে নিজ এলাকায় ওয়ার্কশপ পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষিযন্ত্রের বিক্রয়োত্তর সেবা স্থানীয় পর্যায়েই নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে গাজীপুরে সরকারি জমি ও বিদ্যমান প্রশিক্ষণ অবকাঠামো ব্যবহার করে একটি জাতীয় কৃষিযন্ত্র ওয়ার্কশপ গড়ে তোলা হবে।
সেখানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, গবেষক ও প্রশিক্ষকদের জন্য জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে পাওয়ার টিলারের মতো কৃষিযন্ত্র বেসরকারি পর্যায়েই সফলভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে। একই মডেল অনুসরণ করে নতুন কৃষিযন্ত্রগুলোর ক্ষেত্রেও স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমে গিয়ে বেসরকারি খাতই সার্ভিসিং ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে পারে।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ঘিরে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, প্রকল্প পরিচালকের অনুমোদন ছাড়া কিছু কার্যক্রম পরিচালনা এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে অভিযোগ উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পর্যালোচনায় রয়েছে। যদিও প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



