স্থানীয় সরকার নির্বাচন

আইসিটিতে সাজাপ্রাপ্তরা অযোগ্য, বাতিল ইভিএম পোস্টাল ব্যালট

গাজী শাহনেওয়াজ

আইসিটিতে সাজাপ্রাপ্তরা অযোগ্য, বাতিল ইভিএম পোস্টাল ব্যালট

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) যেকোনো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। একই সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা তুলে দেওয়া ছাড়াও থাকছে না ইভিএম এবং নির্দলীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিধানও।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধি ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় একগুচ্ছ সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে আমূল পরিবর্তন আনার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে ঈদুল আজহার ছুটি শুরুর আগে এ-সংক্রান্ত ইস্যুতে কমিশন সভায় বসার চিন্তা রয়েছে ইসির। ঈদের পর প্রস্তাবগুলো সমন্বিত করে সরকারের সম্মতির জন্য পাঠানো হবে। আর আগামী জুন মাসের মধ্যে এ প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন করা হবে। ইসির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র আমার দেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে।

বিজ্ঞাপন

নতুন প্রস্তাবে গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি ফেরারি থাকলে তাকেও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। এছাড়া দলীয় প্রতীক বাতিল হওয়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে আচরণবিধি ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা থেকে দলীয় প্রতীকের সংশ্লিষ্ট বিধান বাদ দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নেওয়ার বিধানটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না। তাই ইভিএম-সংক্রান্ত বিধানও বাতিল করা হচ্ছে। এগুলো সরকারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে ইসি। এছাড়া প্রতিনিয়ত এগুলোর সংরক্ষণে যে ব্যয় হচ্ছে, তার ভাড়াও পরিশোধ না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

এছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধান যুক্ত করার কথাও ভাবছে কমিশন। বিশেষ করে তফসিল ঘোষণার পর এমপিরা যেন সরকারি অফিস বা প্রশাসনিক কার্যক্রমের আড়ালে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, সেজন্য আচরণবিধিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ধারা সংযোজনের চিন্তা চলছে।

বর্তমানে নির্বাচনি আচরণবিধি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। একই ধরনের ক্ষমতা ইসির কর্মকর্তাদের দেওয়ার প্রস্তাব উঠলেও কমিশন তা নাকচ করে দিয়েছে। কমিশনের মতে, কর্মকর্তাদের বিচারিক ক্ষমতা দিলে তাদের সিদ্ধান্তের দায় কমিশনারদের ওপর বর্তাবে।

এদিকে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিধানও থাকছে না। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনলাইনে মনোনয়ন জমার সুযোগ থাকলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীরা সরাসরি উপস্থিত না হয়েও অংশ নিতে পারেন এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকারের সব স্তরে প্রার্থীদের জামানত বাড়ানোর পরিকল্পনাও করছে ইসি। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনে বর্তমানের চেয়ে বেশি, পৌরসভায় এক লাখ টাকা বা তার বেশি এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্যমান পাঁচ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা করার চিন্তা রয়েছে। এমনকি সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না কোনো পোস্টাল।

ইসির ভাষ্য, স্থানীয় সরকারের সর্বস্তরের নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য হলফনামা জমা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আইসিটির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত যেকোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা তুলে দেওয়ায় প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। ফেরারি আসামিরাও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা, ইভিএম এবং নির্দলীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিধানও থাকছে না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...