কারাগারে বন্দিমৃত্যু বাড়ছে চিকিৎসা সংকটে

কারাগারে বন্দিমৃত্যু বাড়ছে চিকিৎসা সংকটে

দেশের কারাগারগুলোতে বন্দি মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১৪৩৩ জনেরও বেশি বন্দির মৃত্যু হয়েছে। কারাগারে এত বন্দি মারা যাওয়ার কারণ কী— এ বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে।

বন্দি মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনভাবে বৃদ্ধি রহস্যের সঠিক ব্যাখ্যাও দিতে পারেননি কারাগারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। তারা বলছেন— চিকিৎসক সংকট, অপ্রতুল চিকিৎসা সামগ্রী, কারাগারে বিশেষায়িত হাসপাতাল না থাকা, বিদ্যমান হাসপাতালে জনবল সংকটসহ নানা কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের কারাগারের বাইরে চিকিৎসার জন্য নিতে হয়। অনেকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মারা যান। এসব মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২১ সালে ২০৫ জন, ২০২২ সালে ১৩২, ২০২৩ সালে ২২৭, ২০২৪ সালে ১৭৯, ২০২৫ সালে ৩৯০ এবং চলতি বছরে আগস্ট পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি বন্দি হাসপাতালে মারা গেছেন। বছরে গড়ে ২৬০ জন বন্দি মারা যান কারাগারে। আর গত ২০ মাসের গড় হিসাবে প্রতি মাসে মারা গেছেন ৩৪ জনের বেশি।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই সংখ্যা শুধু উদ্বেগেরই নয়, রীতিমতো আতঙ্কের। তারা আটক বা গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকে। কোনো বন্দির মৃত্যু অবহেলাজনিত কারণে হলে এসব মৃত্যুর দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। জরুরিভিত্তিতে মৃত্যুর কারণগুলো শনাক্ত করে প্রতিকার করা জরুরি।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, বর্তমানে যেসব বন্দি কারাগারে আসছে, তার বেশিরভাগই মাদকাসক্ত ও মাদক মামলার আসামি। মাদকাসক্তরা কারাগারে প্রবেশের পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়ে। মাদকাসক্তির মতো সংবেদনশীল অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য কারাগারে বিশেষায়িত হাসপাতাল বা চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতায় এই বন্দিদের অনেকেই হাসপাতালে নেওয়ার পথে বা হাসপাতালে ভর্তির পর মারা যায়। এতে বন্দি মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে।

কারা অধিদপ্তর সূত্র আরো জানায়, দেশের ৭৪টি কারাগারে বন্দির সংখ্যা গত ১৩ সেপ্টেম্বর ছিল এক লাখ ৫১০২ জন। অথচ কারাগারে ধারণক্ষমতা মাত্র ৪৬ হাজার। এই বিশাল সংখ্যক বন্দির জন্য সব কারাগার মিলিয়ে স্থায়ী চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র দুজন। চিকিৎসক পদায়ন হলেও স্থায়ীভাবে কারাগারে কর্মরত থাকতে চান না। তারা পরবর্তীতে অন্যত্র চলে যান।

কারাগারে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি বিষয়ে জানতে চাইলে আইজি (প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল আমার দেশকে বলেন, ‘কারাগারে বন্দির মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। বর্তমানে কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বন্দির সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। বিপুল সংখ্যক বন্দি থাকায় ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি থাকতে পারে।

তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে বন্দির সংখ্যার পাশাপাশি বন্দির প্রকৃতি পরিবর্তন হয়েছে। কারাগারগুলোতে ৩০ হাজারের বেশি বন্দি মাদকাসক্ত ও মাদক মামলার আসামি। তারা কারাগারে ঢোকার পর হার্টঅ্যাটাক ও স্ট্রোকসহ নানা প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মাদকাসক্ত বন্দির জন্য কারাগারে আলাদা কোনো বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। তার দাবি, কারাগারে মাদকাসক্ত বন্দির মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে একটা স্টাডি হওয়া জরুরি।

আইজি প্রিজন্স বলেন, ‘আমাদের বড় সংকট হচ্ছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নেই। নার্স ও চিকিৎসা সরঞ্জামেও রয়েছে বড় ঘাটতি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৪ হাজারের বেশি বন্দি । ঢাকার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সেখানে দিনে ২-৩ ঘণ্টার জন্য যান চিকিৎসক। তার পক্ষে এত বিপুল সংখ্যক বন্দির চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না।’

তিনি আরো বলেন, ‘কারাগারে গেলে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মানসিক চাপ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণেও অসুস্থ হয়ে পড়ে। বছরে গড়ে ৯ লাখের বেশি মানুষ কারাগারে প্রবেশ করে এবং বের হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রতি হাজার জনসংখ্যায় গড় মৃত্যুর হার ছয়জনের বেশি। সে হিসেবে বছরে ৯ লাখ সংখ্যার টার্নওভারে এই মৃত্যুর হার খুব বেশি নয়।’

আইজি প্রিজন্স বলেন, ‘পরিসংখ্যানগত তথ্য যাই হোক, আমরা কারাগারে কোনো মৃত্যু চাই না। আমরা সেবা করি, সেবার মান বাড়াতে চাই। আমরা চাই, কারাগারে সপ্তাহে সাতদিনই ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার-নার্স থাকবেন। যেকোনো বন্দি অসুস্থ হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবেন। কারাগারে চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি করতে সরকারও আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিদ্যমান অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ৪৪টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় কারাগার হাসপাতাল স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্স সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কারাগারে বন্দিদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দুদিনে চার মৃত্যু

ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে রোববার ও সোমবার চার বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে রোববার অসুস্থ হয়ে পড়া আব্দুল মাবুদ (৫৮) নামে হাজতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা গেছেন। কেরানীগঞ্জ থেকে অসুস্থ অবস্থায় দুপুরে কারারক্ষী সাইফুল ইসলাম তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আব্দুল মাবুদের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার হামিমপুরে। তার বাবার নাম আব্দুল সোবাহান।

একই দিন ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়া কয়েদি আব্দুল বারেক (৭০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে মারা যান। তিনি একটি হত্যা মামলায় বন্দি ছিলেন। তার বাড়ি নেত্রকোনায়, বাবার নাম আব্দুল খালেক। তার ছেলে দেলওয়ার বলেন, কারাগারে অত্যন্ত গরমসহ অজানা কারণে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানে ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় আমার বাবাকে কারা কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।

এদিকে সোমবার সকালে হাসপাতালে মারা যান কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে আনা অসুস্থ দুই কয়েদি রফিকুল ইসলাম (৫৪) ও আব্দুর রহিম (৬০)। মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান। রফিকুলের বাবার নাম মো. রজব আলী, বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুরের পত্রনবিশ গ্রামে। তিনি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন।

এছাড়া ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি আব্দুর রহিম (৬০) সোমবার সকালে মারা যান। গত ৩ সেপ্টেম্বর তাকে অসুস্থ অবস্থায় কারারক্ষীরা ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। আব্দুর রহিম ঢাকার গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা। তিনি অস্ত্র মামলায় সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন।

নিহতের মেয়ে বৃষ্টি আমার দেশকে বলেন, ‘আমার বাবা কাশিমপুর কারাগারে স্ট্রোক করেন। সেখানে ভালো চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় কেরানীগঞ্জ পাঠানো হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর মারা যান তিনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাবা অসুস্থ পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। সঙ্গে সঙ্গে ভালো চিকিৎসা হলে হয়তো তিনি প্রাণে যেতেন।’

চিকিৎসক সংকট চরমে

দেশের ৭৪ কারা হাসপাতালের জন্য অনুমোদিত চিকিৎসকের স্থায়ী পদ রয়েছে ১৪৮টি। তবে বর্তমানে এসব হাসপাতালে স্থায়ী চিকিৎসক আছেন মাত্র দুজন। স্থায়ী চিকিৎসক না থাকায় সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের দপ্তর থেকে কারা হাসপাতালে অস্থায়ী ভিত্তিতে চিকিৎসক পাঠানো হয়, এ সংখ্যা ১০১। কারা কর্মকর্তারা জানান, এসব অস্থায়ী চিকিৎসক সকালে এসে দুপুরের পর অথবা বিকালে চলে যান। এতে রাতে কোনো বন্দি অসুস্থ হলে তাদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে বাইরের হাসপাতালে পাঠাতে হয়। জরুরিভিত্তিতে কল করেও কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায় না।

সংকট নিরসনে যত উদ্যোগ

কারা কর্তৃপক্ষ বন্দি মৃত্যু কমাতে জরুরিভিত্তিতে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। কারাবন্দিদের উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) আধুনিক কেন্দ্রীয় কারাগার হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জেও কেন্দ্রীয় হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কারাগারে চিকিৎসা সংকট দূর করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের অধীনে ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দ্রুতই পদায়ন করা হবে। শূন্যপদে স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ এবং সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে সংযুক্ত চিকিৎসকদের সংখ্যা বাড়ানোর কাজ চলছে। কারা স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৪৪টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স কেনা হচ্ছে।

এছাড়াও কারা কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বন্দিদের প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা বাড়াতে কারা সদর দপ্তরে আধুনিক প্যাথলজি ল্যাবরেটরি স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কারাগারে বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্য, মাদকাসক্তি এবং সংক্রামক ব্যাধি ব্যবস্থাপনার জন্য ‘গাইডলাইন ফর প্রিজন হেলথ ইন্টারভেনশনস ইন বাংলাদেশ’ তৈরি করা হয়েছে। অসুস্থতা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে কারাগারগুলোতে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ একটি মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০০৩ সালে বন্দিদের জটিল রোগের চিকিৎসা দিতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২–এ হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। ২০০ শয্যার এই হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও চিকিৎসক, নার্সসহ লোকবলের অভাবে হাসপাতালটির পুরোপুরি কার্যক্রম চালু করা যায়নি।

মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগ

কারাগারে বন্দি মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান লিটন। তিনি আমার দেশকে বলেন, বন্দি মৃত্যুর হার বাড়ছে, এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। বন্দি মৃত্যুর বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ আগে যেসব কথা বলেছেন, এখনো সেরকম কথাই বলছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে কারাগারে মৃত্যু বেড়েছে। এসব মৃত্যুর নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখা উচিত। কারা কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর যেসব কারণ বলছে, সেটা না অন্য কোনো কারণ আছে যা আমরা জানি না।’

নূর খান বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বন্দি থাকা মানে তিনি রাষ্ট্রের হেফাজতে আছেন। তার মৃত্যুর দায় দিন শেষে রাষ্ট্রের। যদি তারা বলেন চিকিৎসক নেই, বিশেষায়িত হাসপাতাল নেই এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দেখতে হবে বন্দিদের থাকার ব্যবস্থা, খাবারের মান ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সঠিক আছে কি না। আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা উচিত যে, কোন সময়, কোন বয়সি বন্দি বেশি মারা যাচ্ছে। সে আটকের সময় বা জিজ্ঞাসাবাদের সময় মারা যাচ্ছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন