হাসিনার দোসর চুপ্পুর বিদায়

এম এ নোমান ও জাহিদুল ইসলাম

হাসিনার দোসর চুপ্পুর বিদায়
আমার দেশ গ্রাফিক্স

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তিন বছর আট মাস দায়িত্ব পালনের পর গতকাল শুক্রবার বিকালে পদত্যাগ করেন তিনি।

পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের পরপরই আমার দেশকে তিনি বলেন, ‘আমি ভীষণ অসুস্থ। শারীরিক নানান জটিলতায় ভুগছি। চিকিৎসকরা আমাকে পূর্ণ বিশ্রাম ও উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় আমার পক্ষে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এজন্যই আমি পদত্যাগ করেছি।’

বিজ্ঞাপন

দেশের বিতর্কিত ২২তম রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্রটি গতকাল বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের হাতে তুলে দেন তার সামরিক সচিব। তখনই সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরপরই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ব্রিফিং করে বিষয়টির বিস্তারিত তুলে ধরেন।

এদিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।

ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে নিয়োগ পেয়ে তিনটি সরকারের সময় দায়িত্ব পালনকারী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে চুপ্পুর পদত্যাগ এবং হাফিজ উদ্দিন আহমদের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জামায়াতে ইসলাম ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতারা পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন। তারা বলেন, হাজারো ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনার পতন ও পলায়নের পর তার নিয়োগ করা জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন পালিয়ে গিয়ে পদত্যাগ করলেও দেশে থেকে যান চুপ্পু।

দেশবাসীকে অবাক করে হাসিনা ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তাকে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করেন। হাসিনার পলায়নের পর তার পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-জনতা বঙ্গভবনের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভও করেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। তবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার অজুহাতে তাকে বহাল রাখা হয়।

তবে দেরিতে হলেও বঙ্গভবনকে ফ্যাসিস্টের দোসরের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। পাশাপাশি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্বকে নির্বাচিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, গতকাল বিকাল ৪টার দিকে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে নিজের তৈরি করা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন চুপ্পু। বিকাল সোয়া ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তার মাধ্যমে এটি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠিয়ে দেন, যেটি বিকাল ৫টার দিকে স্পিকার গ্রহণ করেন।

পদত্যাগপত্রে চুপ্পু উল্লেখ করেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে পড়ি। রোগগুলোর প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।’

তিনি আরো লেখেন, ‘এমতাবস্থায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

হাসিনার পতন ও পলায়নের পর দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে চুপ্পু তার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, ‘আমি মো. সাহাবুদ্দিন ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে। নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে দেশ পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।’

মাফিয়া সরকারের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে চুপ্পুর পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সংসদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সব সময়। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।’ এর আগে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি চূড়ান্ত হলে থাইল্যান্ড থেকে গতকাল দুপুরে জুরুরি ভিত্তিতে দেশে ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। সরকার তাকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে আসার অনুরোধ জানিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র আমার দেশকে জানায়।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত সপ্তাহে তাকে দুই দফা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। ওই হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে পূর্ণ বিশ্রাম ও উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি তার পদত্যাগের বিষয়টি বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পরিবারের সদস্যদের জানান। তখনই সরকার স্পিকারকে জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফেরার অনুরোধ করে।

বঙ্গভবনে বিদায়ের সূর

রাষ্ট্রপতি শুক্রবার বঙ্গভবন জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এর আগে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেলা ৩টার মধ্যে বঙ্গভবনে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, ‘আমি জুমার নামাজ আদায় করেছি নিজ এলাকায়। দ্রুত বাসায় গিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে বঙ্গভবনে চলে এসেছি। এর আগেই ঊর্ধ্বতন স্যারেরা সবাই চলে এসেছেন।’

বঙ্গভবন সূত্র জানায়, বিদায়ী রাষ্ট্রপতির ইচ্ছায় আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় বঙ্গভবনে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এখানে তিনি সবার কাছ থেকে বিদায় নেবেন। আগামীকাল রোববার সকালের দিকে চুপ্পু বঙ্গভবন ছেড়ে তার গুলশানের বাসায় উঠবেন বলে জানিয়েছেন বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে তার গুলশানের ফ্ল্যাটের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার আমার দেশকে বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রপতি অসুস্থতাজনিত কারণে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন’ এ সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকসহ গণমাধ্যমগুলোয় প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যেও বেশ কৌতূহল ছিল। ফলে বঙ্গভবনে বিদায়ের সুর লক্ষ্য করা গেছে বলেও জানান এই কর্মী।

শপথ পড়ান তিন সরকারের

২১তম রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সবাইকে অবাক করে দিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে চুপ্পুকে বেছে নেন পতিত স্বৈরশাসক হাসিনা। তার এ মনোনয়নে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় ওঠে। একজন মধ্যম সারির আমলাকে মনোনয়ন দেওয়ায় খোদ আওয়ামী লীগের মধ্যেই ক্ষোভ তৈরি হয়। নিজ জেলা পাবনায় এক অনুষ্ঠানে নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বলে পরিচয় দিয়ে গর্ববোধ করেন। যিনি দ্বাদশ নির্বাচনে এমপি পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নেওয়ার লড়াইতে ছিলেন। তার এ উত্থানে তুমুল বিতর্ক শুরু হয় দলটির মধ্যেই।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা মূলত আলোচিত ‘ডামি নির্বাচন’ নামে পরিচিত। সেই নির্বাচনের পর ১১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হাসিনাকে শপথবাক্য পাঠ করান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি চুপ্পু এছাড়া ওই বছরের ৫ আগস্ট হাসিনা দেশত্যাগ করলে ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টাদের শপথ পড়ান সাহাবুদ্দিন। তবে এরপরে তিনি ছিলেন নিষ্ক্রিয়। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর তার কাছে শপথ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে রেখে দেওয়ায় বিতর্ক শুরু হয়।

হাসিনার পা ছুঁয়ে সালাম

রাষ্ট্রপতি হওয়ার অনেক আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি অনুষ্ঠানে হাসিনার পা ছুঁয়ে সালাম করেন চুপ্পু। ওই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর ছবিটি নতুন করে ভাইরাল হয়। সমালোচকদের বক্তব্য ছিল, একজন রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে নিরপেক্ষতার প্রতীক হওয়ার প্রত্যাশা থাকে। সেই জায়গায় এমন একটি ছবি রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ছাত্রলীগকর্মী থেকে রাষ্ট্রপতি

ছাত্রলীগের একজন কর্মী থেকে রাষ্ট্রপতি হন চুপ্পু। এটিই ছিল তার জীবনের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। আমার দেশ-এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এ প্রসঙ্গটিও উঠে এসেছিল। জীবনের এ অনন্য প্রাপ্তির বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার জীবনে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পেয়েছি। এমন সৌভাগ্যবান মানুষ দেশে দু’চারজন। আল্লাহ আমাকে এটি দিয়েছেন। সারাজীবন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে শেষ করতে পারব না।’

বিদায়ী রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত জীবনী থেকে জানা গেছে, ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতি করেছেন চুপ্পু। ১৯৭০ সালে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৭২ সালে পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

চুপ্পুর জন্ম ১৯৪৯ সালে পাবনা শহরের শিবরামপুর মহল্লার জুবিলি ট্যাংকপাড়ায়। রাধানগর মজুমদার (আরএম) একাডেমি থেকে প্রাথমিকের পাঠ চুকিয়ে সরকারি এডওয়ার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৯৬৬ সালে এসএসসি, ১৯৬৮ সালে এইচএসসি এবং ১৯৭২ সালে বিএসসি পাস করেন। ১৯৭৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর এবং ১৯৭৫ সালে পাবনা আমিনুদ্দিন আইন কলেজ থেকে এলএলবি পাস করে পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আইন পেশায় যোগ দেন। তিনি ১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) ক্যাডার হিসেবে যোগ দিয়ে ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চুপ্পু।

ইসলামী ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের মালিকানাধীন চট্টগ্রামের জেএমসি বিল্ডার্সের পক্ষে ২০১৭ সালের জুনে চুপ্পু ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক নিযুক্ত হন। পরে তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। ২০২৩ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার আগ পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন