হোম > আমার দেশ স্পেশাল

অপুর কথিত স্বীকারোক্তি নিয়ে চাঞ্চল্য, প্রশ্ন

ওয়াসিম সিদ্দিকী

রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শাম্মী আহম্মেদের বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা জানে আলম অপুর স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য এবং তার স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অপুর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে অপুকে (বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে) উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে জড়িয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে দেওয়া অপুর অভিযোগ নাকচ করেছেন উপদেষ্টা। তিনি দাবি করেন, চাঁদাবাজির ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। অন্যদিকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ।

গ্রেপ্তার অপুর স্ত্রী কাজী আনিশা গতকাল শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের লোকজন তুলে নিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করে ভিডিও প্রকাশ করেছে। রিমান্ডেও বারবার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নাম বের করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে স্ত্রীকে জানিয়েছেন অপু। আনিশা বলেন, ‘গত ৮ আগস্ট কাশিমপুর কারাগারে দেখা করার সময় আমাকে এসব ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের কথা অপু আমাকে জানায়।’ আনিশা বলেন, ‘অপুর মুখ দিয়ে এই দুটি নাম (আসিফ মাহমুদ ও নাহিদ ইসলাম) বের করার জন্য বারবার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু অপু এখন পর্যন্ত এই নামগুলো ১৬৪ এ কোথাও বলেননি।’

তবে অপুর স্ত্রীর অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান আমার দেশকে বলেছেন, রিমান্ডে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, গুলশানের চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার অপু ও রিয়াদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। চাঁদার ৫ লাখ টাকা তারা দুজনে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। অপু বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।

গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিওতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপুর বক্তব্য প্রকাশ পায়। সেখানে তিনি ভোরে গুলশানের একটি হোটেলের সামনে এক উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বলেন। ৩৫ মিনিটের ওই ভিডিওতে চাঁদাবাজির ঘটনার শুরু শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করতে দেখা যায় অপুকে।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার রিয়াদ এবং অপুর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ ঘটনা জানার পর তাদের দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। খুব শিগগিরই ঘটনার নেপথ্যের কাহিনি বের হয়ে আসবে। ভিডিও তৈরির প্রেক্ষাপট কিংবা ভিডিওটি কতটুকু সত্য এবং উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জড়িত কি না, সব পরিষ্কার হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর কাদা ছোড়াছুড়ি অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে কি না, তাও জানা যাবে। ভিডিওতে কোনো ধরনের এডিটিংয়ের সাহায্য নেওয়া হয়েছে কি না, এডিট করলে কোন কোন বিষয়ে এডিট করা হয়েছে, তা জানা যাবে।

বলা হচ্ছে, হোটেল ওয়েস্টিনের সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী যেদিন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের হোটেল ওয়েস্টিনে প্রবেশ করেছিলেন, সে সময় অপু সেখানে ছিল কি না, তাও বের করা দরকার। অপু সেদিন সেখানে না থাকলে কোথায় ছিলেন, তা নিয়েও রহস্য রয়েছে। অপুর ভিডিও এডিট হয়ে থাকলে প্রকৃত ভিডিওটি কোথায়, সেটা বের করা যাবে কি না, তাও এক রহস্য। তা ছাড়া অপুর স্ত্রীর দাবি অনুযায়ী অপুকে জোর করে ভিডিও ধারণ করতে বাধ্য করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও সামনে আসবে বলে বলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘জানে আলম অপুকে ২০২২ সালে চিনতাম। ৫ আগস্টের পর তার সঙ্গে কখনো দেখা বা কথা হয়নি। এ ধরনের দাবি আসার পর বেশ অবাক হয়েছি। চাঁদাবাজির সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, যা বলা হচ্ছে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একজনের (অপু) যে স্ট্যাটমেন্ট নেওয়া হয়েছে তা জোর করে নেওয়া হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।’

অন্যদিকে গুলশানে নিজ বাসায় প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, গুলশানে চাঁদাবাজির ঘটনায় উপদেষ্টাদের কেউ জড়িত কি না, তা জনগণের সামনে তুলে ধরা দরকার। তদন্ত না হলে তাদের বিষয়ে আরো প্রশ্ন উঠবে। এ ঘটনার বিস্তারিত ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া দরকার।

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আরো বলেন, ‘অপুর সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। আমার মনে হয় না এখনো কেউ এ রকম প্রমাণ দিতে পেরেছেন যে, আমার সম্পৃক্ততা আছে। বরং যার (জানে আলম অপু) সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, এই সাক্ষাৎকার একজন রাজনৈতিক নেতার বাসায় একজনকে জোরপূর্বক নেওয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, এটা অত্যন্ত গুরুতর একটা অভিযোগ। এটা পরিবারের (অপুর স্ত্রী আনিশা) দিক থেকে এসেছে, এখন পর্যন্ত যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছে।’ এর সঙ্গে যে আমার সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এরকম অনেক কিছু আপনারাও ইতোমধ্যে দেখেছেন। আমরা সেগুলো ডিফেন্ড করেছি। এখন দেখছেন, সামনেও হয়তো দেখবেন।’

উপদেষ্টা বলেন, রাতে মাঝে মধ্যে কাজ শেষ করতে ভোর হয়ে যায়, ওই সময় খাবার দেওয়ার জন্য বাসায় কেউ থাকে না। অনেক সময় ৩০০ ফিটের নীলা মার্কেটে যাই। ওখানে হাঁসের মাংস ভালো পাওয়া যায়। বেশি ভোর হয়ে গেলে ওটা বন্ধ থাকে। তখন ওই দিকে হোটেল ওয়েস্টিনে যাওয়া হয়। জানে আলম অপু তার বক্তব্যে যেদিন আসিফ মাহমুদ গুলশানে গিয়েছিলেন এবং দুজনের দেখা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন। তবে ওই দিন গুলশান এলাকায় গিয়েছিলেন কিনা মনে করতে পারেননি উপদেষ্টা।

সিসিটিভি ফুটেজে চিহ্নিত ব্যক্তি তিনি কি না জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে হেলমেট পরা যে কাউকে যদি আমাকে বলে দাবি করা হয়, এটা কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য? আমি এ বিষয়ে আর বেশি কিছু বলতে চাই না। তদন্তাধীন বিষয় যেহেতু।’

ভিডিওতে কী বলেছেন অপু

ভিডিওতে জানে আলম অপুকে বলতে দেখা যায়, ‘আমার কিছু প্রশ্ন আছে। আপনারা কি জানেন, ওই দিন ভোর ৫টার সময় ওই জোনের ডিসি-এসিকে (ডিএমপির গুলশান জোন) অবগত করে একদম অফিসিয়াল প্রসেসে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে শাম্মির (সাবেক এমপি) বাসায় আমরা অভিযান চালানো হয়। আপনারা কি জানেন, সেই অভিযানে যাওয়ার আগে গুলশানের কোনো একটি জায়গায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সঙ্গে আমার কথা হয়।’

অপু বলেন, ‘মিডিয়ায় সে বিষয়টি নেই কেন? আগের রাতে অভিযানের বিষয়টি মিডিয়ায় ধামাচাপা দেওয়া হলো কেন? ভোরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেই অভিযানের তথ্য নেই কেন। অভিযানের সময় আমরা বুঝতে পারি শাম্মি সেখানে ছিলেন। কিন্তু তথ্য পেয়ে তিনি পালিয়েছেন। যে আড়াই মিনিটের ভিডিও ভাইরাল করে আমাদের রাতারাতি ভিলেন বানানো হলো- তাদের কাছে চ্যালেঞ্জ, সৎ সাহস থাকলে আগের রাতের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেন। দেখি কে ফোন করছেন, কার ফোনে শাম্মি ওই বাসা থেকে বের হয়েছেন। আমরা যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অভিযানে গেলাম সেখানে আমাদের মধ্যে কী কথা হয়েছিল সেগুলো প্রকাশ করুন।’

চাঁদাবাজির ঘটনায় গত ১ আগস্ট জানে আলম অপুকে রাজধানীর ওয়ারী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। একই দিন অপুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর এলাকার অপুর বাসা থেকে ইয়ামাহা এফজেড-এক্স ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে পুলিশ।

যা বলেছেন অপুর স্ত্রী আনিশা

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার জানে আলম অপুর স্ত্রী কাজী আনিশা বলেন, জাতীয় জাতীয় নাগরিক পার্টিকে ও এর নেতাদের দাবায়ে রাখতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপুকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে ফাঁদে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, গত ৮ আগস্ট কাশিমপুর কারাগারে অপুর সঙ্গে দেখা করার সময় আমাকে এসব ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের কথা জানায়।

অপু আমাকে তখন বলে, ‘আমাকে দুটি বাইক এসে উঠিয়ে নিয়ে যেয়ে একটা বড়সড় ভিডিও বানিয়ে রেখেছে। একটু একটু করে শিখিয়ে দিয়ে ভিডিওটি বানায় রাখছে ওরা। যে কোনো সময় এটা ছড়িয়ে দিতে পারে। এটা যদি বের করে তোমার সম্ভব হলে সত্যটা প্রকাশ করার চেষ্টা কইরো।’

অপুর স্বীকারোক্তিমূলক ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে আনিশা বলেন, আপনারা দেখেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভিডিও-ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে—এগুলো গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকার যে বাসা, সেখানেই অবস্থানরত ছিল অপু সারা রাত। সেখানেই এই স্ট্যাটমেন্টগুলো দিয়েছে, এটাই সত্যি।

তিনি বলেন, অপুকে ইশরাক ভাইয়ের লোকজন তুলে নিয়ে গিয়ে সারা রাত দফায় দফায় অপুর ভিডিও ধারণ করেছে। একটু একটু করে অ্যাড (যুক্ত) করেছে এবং ১৪ দিনের মাথায় এসে এটি ছড়ানো হয়েছে। আনিশা বলেন, গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত অপুকে বন্দি করে যে স্বীকারোক্তি নিল, এটা কারা নিল? ওর সামনে কে বসেছিল? একটু পর পর ওকে কে প্রশ্ন করেছে? আর গোপীবাগ কার বাসা? আপনারা সবাই জানেন। ভিডিও নেওয়া শেষে সেখান থেকে বিএনপি নেতা ইশরাক নিজেই ডিবিকে জানিয়ে দিয়ে সকাল সাড়ে ৭টায় অপুকে আটক করান বলে জানিয়েছেন আনিশা।

এতদিন পর কেন এই সংবাদ সম্মেলন করা হচ্ছে জানতে চাইলে আনিশা বলেন, আমাদের পাশে বা অপুর পাশে এখন পর্যন্ত এনসিপি বা কেউ দাঁড়ায়নি। আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এখন যখন এনসিপিকে নিয়ে প্রশ্ন উঠল—তখন এনসিপি এত মিডিয়া ব্যবস্থা করে দিল।

২৬ মার্চ ঘিরে প্রত্যাবর্তনের ছক নিষিদ্ধ আ.লীগের

চট্টগ্রামে দেড় বছরে ১৮৬ পোশাক কারখানা বন্ধ

প্রথম অধিবেশনই উত্তপ্ত হচ্ছে

১৮ মাস পার হলেও অগ্রগতি নেই জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর

ঋণখেলাপি সংস্কৃতি উত্থানে চার কারণ

শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ফারাক্কা দিল্লির কূটনৈতিক অস্ত্র নাকি ঢাকার সার্বভৌমত্বের লড়াই

গ্রাহক টানতে পারছে না স্টারলিংক

পারস্পরিক সহযোগিতায় দেশ পরিচালনা করুন

সিটি করপোরেশন আইনে সংশোধনী আনবে ইসি