হোম > আমার দেশ স্পেশাল

ঢাকায় আপিল না করলেও কুষ্টিয়ায় নজিরবিহীন কাণ্ড ইসির

এমরান এস হোসাইন

‘সংক্ষুব্ধ পার্টি’ না হওয়ায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে আপিল করেনি। তবে কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভার ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করে আরিফুর রহমান দীর্ঘ চার বছর পর মেয়র পদ ফিরে পেলেও ইসি আপিল করে তা আটকে দিয়েছে। এক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার আপিল করেছেন। অবশ্য ঘটনার জেরে উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি কমিশন থেকে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র ও কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ২০২০ সালের নির্বাচনে ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণার ফল বাতিল করে গত ২৭ মার্চ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে। ওই রায়ের পর গেজেট প্রকাশের বিষয়ে মতামত জানতে আইন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে মতামত পাওয়ার আগেই ২৭ এপ্রিল ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে ইসি। মতামতের আগে গেজেট প্রকাশের কারণ ব্যাখ্যা দিয়ে ইসির তরফ থেকে বলা হয়েছিল, আদালত থেকে ১০ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকায় তারা শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করে গেজেট প্রকাশ করেছেন।

নির্বাচন কমিশন সংক্ষুব্ধ পার্টি না হওয়ায় তারা ট্রাইব্যুনালে আপিল করবে না বলেও কমিশন থেকে ওই সময় জানানো হয়। অবশ্য ইসি থেকে প্রথমে ‘তৃতীয় পক্ষ’ হিসেবে আপিলের সুযোগ নেই বলে জানালেও বস্তুত কমিশন এখানে তৃতীয় পক্ষ নয়। কারণ ইশরাকের মামলায় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা, রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট আটজনকে বিবাদী করা হয়েছিল।

পরে অবশ্য ইসি থেকে ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, তারা সংক্ষুব্ধ পার্টি না হওয়ায় আপিল করেনি। এ বিষয়ে আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে কেন আপিল করেনি তার ব্যাখ্যা দিয়ে গত ২১ মে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল সানাউল্লাহ সংবাদিকদের বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে সব ফাইল ঘেঁটে দেখার চেষ্টা করেছি যে, কখনো নির্বাচন কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে পক্ষভুক্ত হয়েছে কি না বা আপিল করেছে কি নাÑএমন কোনো নজির পাইনি। সুতরাং আমাদের পক্ষভুক্ত হওয়ার বা আপিল করার সুযোগ আইন দেয়নি।

আরপিও, সিটি কপোরেশন ও পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সবগুলোতে বলা আছে, নির্বাচন দরখাস্তে কাদের পক্ষভুক্ত করা যাবে। সেখানে নির্বাচন কমিশনকে পক্ষভুক্ত করার কোনো আইন নেই। কিন্তু আমাদের দেশে যেটা হয়ে থাকে, যদি কেউ দরখাস্ত করে থাকেন, নির্বাচন কমিশনকেও একটি পক্ষ বানান।

এর আগে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আমার দেশকে বলেছিলেন, ‘গেজেট ১০ দিনের মধ্যে জারির বাধ্যবাধকতা ছিল। আমরা বিলম্ব করলে ইশরাক সাহেব আবার আদালতে যেতেন। সেখান থেকে অনুমোদন নিয়ে এলে সেটা আমাদের জন্য সম্মানজনক হতো না। আর যদি গেজেটটি না করতাম, তখন সবাই বলত আমরা আওয়ামী লীগার। আর ইসি সংক্ষুব্ধ না, ইশরাক সংক্ষুব্ধ। তাই আমরা আদেশের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করিনি, এ ধরনের চ্যালেঞ্জ কমিশনকে প্রতি মুহূর্তে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বরং অনেক কথা না বলে, যদি বর্তমান সরকার ২০১৪ সালের পর যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, একটা অধ্যাদেশ জারি করে বাতিল করে দিত, তাহলে এত কিছুর প্রয়োজন হতো না।’

সংক্ষুব্ধ পার্টি নন, নজির নেই, তৃতীয় পক্ষ ইত্যাদি ব্যাখ্যা দিয়ে ইশরাকের ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে আপিল করা থেকে বিরত থাকে। তবে কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভার মেয়র হিসেবে আরিফুর রহমান নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করে জয় লাভ করলেও তাকে আটকে দিতে ঠিকই আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয় ইসি। মামলার রায়ে আরিফুলকে মেয়র ঘোষণা করে ১০ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে ইসির পক্ষ থেকে আপিল করে তা আটকে দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার বাদী হয়ে ওই আপিল করেছিলেন। ওই ঘটনা জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাচন অফিসার সাইফ আহমেদ মাসুদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। জানা গেছে, আপিলের বিষয়টি নির্বাচন কমিশন বর্তমানে তদন্ত করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে আপিল করা হয়েছে। আপিলে রায় স্থগিত হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে আমি আপিলের একজন বাদী। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সরকারি আইনজীবী এ আপিল দায়ের করেছিলেন।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে গতকাল সন্ধ্যায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো আপিল করা হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে অফিস চলাকালীন যোগাযোগ করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলীম আমার দেশকে বলেন, ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদটি নিয়ে অহেতুক জটিলতা তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বা সরকার কেউই এর দায় এড়াতে পারে না। সবাই আন্তরিক হলে শুরুতেই এটা সুরাহা করা যেত।

২৬ মার্চ ঘিরে প্রত্যাবর্তনের ছক নিষিদ্ধ আ.লীগের

চট্টগ্রামে দেড় বছরে ১৮৬ পোশাক কারখানা বন্ধ

প্রথম অধিবেশনই উত্তপ্ত হচ্ছে

১৮ মাস পার হলেও অগ্রগতি নেই জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর

ঋণখেলাপি সংস্কৃতি উত্থানে চার কারণ

শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ফারাক্কা দিল্লির কূটনৈতিক অস্ত্র নাকি ঢাকার সার্বভৌমত্বের লড়াই

গ্রাহক টানতে পারছে না স্টারলিংক

পারস্পরিক সহযোগিতায় দেশ পরিচালনা করুন

সিটি করপোরেশন আইনে সংশোধনী আনবে ইসি