৩০০ আসনে প্রার্থী ১৯৮১
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অপরাধে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ক্ষেত্রবিশেষে তাদের জরিমানাও করা হচ্ছে। গত ৪ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৬ দিনে ৫৯ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ সময় জরিমানা করা হয়েছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার বেশি। ইসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে বিধি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে ইসি। এছাড়া অনেককে জরিমানাও করা হয়েছে। ৬৭ আসনে বিধি ভঙ্গ হয়েছে বেশি। এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে মূল প্রচার শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
ইসিসংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে সব প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্তভাবে প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮১ জনে। এবার নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কমিশন। এ উপলক্ষে মাঠপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে অভিযান চালানো হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, ৮ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ৬৭ নির্বাচনি এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময়ে ৫৯ মামলায় মোট ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। কয়েকটি ঘটনায় কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছে। এই পর্যায়ে আচরণবিধি ভঙ্গের সংখ্যা ছিল ৭৭।
এদিকে নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যক্রমেও গতি দেখা গেছে। ৪ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে একাধিক ক্ষেত্রে নির্বাচনি পোস্টার অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কারণ দর্শানোর নোটিস জারি, সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে জরিমানা আরোপ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই পর্যায়ে প্রাপ্ত প্রতিবেদন ছিল ৮৭৩টি, যার মধ্যে পোস্টার অপসারণের জন্য নির্দেশনা ছিল ১২৫টি, কারণ দর্শানোর নোটিস ছিল ১৯০টি, বিধি ভঙ্গের বিরুদ্ধে ইসির নোটে উপস্থাপিত প্রতিবেদন ছিল ৭৫টি, সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে জরিমানা হয়েছে ৪টি, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় ২৬টি এবং অন্যান্য অভিযোগ ছিল ৪৭৯টি।
ইসি এবং নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন— নওগাঁ-২ ও ৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জোহা খান ও ইকরামুল বারী। তাদের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি শোকজ করেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—নির্ধারিত সময়ের আগে ভোট চাওয়া, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং গাড়িতে দলীয় পতাকা ব্যবহার।
অনুরূপভাবে, রাজশাহী-১ ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনে যথাক্রমে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুজিবুর রহমান ও আবু তাহির মুহাম্মদ আবদুস সালামকে শোকজ করা হয়।
এছাড়া ভোটের নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ আগে প্রচার চালানোর অভিযোগে হবিগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড লাগানোর মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে।
একই ভাবে, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মামুনুল হককে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে চিঠি দিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। গতকাল ইসিতে এসে তার শোকজের লিখিত জবাব দিয়ে গেছেন এই প্রার্থী।
নির্বাচন কমিশন বলছে, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে প্রার্থী, সমর্থক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।