হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর খোয়া যাওয়া অস্ত্র নিয়ে শঙ্কা

আল-আমিন

প্রতীকী ছবি

বিতর্কিত তিনটি নির্বাচনের পর আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে ভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ সাদা পোশাকে মাঠে কাজ করছেন বিভিন্ন

গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। ভোটের দিন নাশকতা রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। গতকাল বুধবার থেকেই ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো শুরু করেন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কেপিআইভুক্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করা হয়েছে।

গতকাল ঢাকার সড়কে লোকজনের আনাগোনা কম ছিল। সড়ক ছিল ব্যাটারিচালিত রিকশার দখলে। যেসব যানবাহন সড়কে নেমেছিল সেসব পরিবহনগুলোর নির্বাচনি পাস রয়েছে কি না, তা খোঁজ নিয়েছে পুলিশ। যাদের পাস ছিল না তাদের নামে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক জেলা ও ময়মনসিংহ বিভাগের একাধিক জেলাকে নজরদারিতে রেখেছে পুলিশ। এসব আসনে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বসবাস বেশি। ভোট উপলক্ষে যাতে কোনোরকম নাশকতা তারা তৈরি করতে না পারে, সেদিকে সতর্ক রয়েছে পুলিশ। কারণ হিসেবে ২০২৪ সালে গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর ওপর হামলা এবং এনসিপির সমাবেশে হামলাকে বিবেচনায় রেখেছে পুলিশ। এছাড়াও কোনো চক্র যাতে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সে বিষয়টি নজর রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে আইজিপি বাহারুল আলম গত মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, ভোট সুষ্ঠু করতে নিরাপত্তার জন্য তারা সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন উপলক্ষে আলাদা নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ। প্রত্যেক জেলার পুলিশের বিশেষ ব্র্যাঞ্চের (এসবি) প্রতিবেদন মূল্যায়ন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এসবির একটিসহ একাধিক প্রতিবেদন আমলে নিয়ে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। ৬৪ জেলার এসপিরা জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছে। ভোটারদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোনো আস্থার সংকট তৈরি না হয়, সেদিকে নজর দেবে পুলিশ।

সূত্র জানায়, ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি কিংবা কোথাও কেন্দ্র দখলের মতো পরিস্থিতির খবর পাওয়া মাত্রই সরাসরি মাঠে গিয়ে অপারেশন চালাবে পুলিশ। পুলিশ তার প্রথাগত সোর্সকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়াও যেসব এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিং সক্রিয় নেই, সেসব এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিংকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচনে প্রচারে সহিংসতায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আতঙ্ক ছিল। কিন্তু এটি মাঠ পর্যায়ে খুব একটা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ বলছে, রাজনৈতিক সহিংসতায় নির্বাচনি তফসিলের পর এ পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হয়। ভোটের মাঠে যাতে সহিংসতা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখছে তারা।

সূত্র জানায়, ভোটের মাঠে দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে, যাতে ভোটাররা নির্বাচনে ভোট দিতে না আসে। এছাড়াও প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হট্টগোল বাধার শঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে সব দিকে নজর রাখবে পুলিশ। এছাড়াও জালভোট রোধে কেন্দ্রের গেটেই পুলিশ ভোটারদের স্লিপ দেখবে, যাতে কেউ জালভোট না দিতে পারে। পাশাপাশি ভোটের দিন প্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নজর রাখবে।

খোয়া যাওয়া অস্ত্র নিয়ে দুশ্চিন্তা

জুলাই বিপ্লবের পর পুলিশের লুণ্ঠিত এক হাজার ৩৩১টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। দুটি কারাগার থেকে লুট হওয়া ২৭টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি। পাশাপাশি লুণ্ঠিত আড়াই লাখের বেশি গোলাবারুদ রয়ে গেছে পুলিশের নাগালের বাইরে। এ অস্ত্র নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে পুলিশের। লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছেÑরাইফেল, এসএমজি, এলএমজি, শটগান, পিস্তল, কাঁদানে গ্যাস লঞ্চার, গ্যাসগান, কাঁদানে গ্যাসের শেল, কাঁদানে গ্যাসের স্প্রে, সাউন্ড গ্রেনেড, বিভিন্ন বোরের গুলি, টিয়ারশেল, টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড, সাউন্ড গ্রেনেড, কালার স্মোক গ্রেনেড, সেভেন মাল্টিপল ব্যাং স্টান গ্রেনেড, ফ্ল্যাশ ব্যাংক গ্রেনেড ও হ্যান্ড হেল্ড টিয়ার গ্যাস স্প্রে।

উদ্ধার না হওয়া এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছেÑ২৯৬টি চায়না রাইফেল, আটটি বিডি রাইফেল, চায়না এসএমজি ৬০টি, এলএমজি আটটি, চায়না পিস্তল ৫৪টি, ৯ বোরের পিস্তল ৬৪৭টি, এসএমজি একটি, ১২ বোরের শটগান ৬৫৩টি, সিংগেল গ্যাসগান ১১৭টি, ৩৮ মিমি টিয়ার গ্যাস লঞ্চার পাঁচটি ও সিগন্যাল পিস্তল দুটি। উদ্ধার না হওয়া গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছেÑবিভিন্ন বোরের গুলি দুই লাখ ৯৪ হাজার ৪০৫টি, টিয়ারশেল আট হাজার ৮১১টি, টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড ৭৫১টি, সাউন্ড গ্রেনেড দুই হাজার ৫৬৪টি, কালার স্মোক গ্রেনেড ৭৭টি, সেভেন মাল্টিপল ব্যাং স্টান গ্রেনেড ৩৭টি, ফ্লাশ ব্যাংক গ্রেনেড ৩৬০টি, হ্যান্ড হেল্ড টিয়ার গ্যাস স্প্রে ৮৩টি।

সূত্র জানায়, এর মধ্যে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবন থেকে এসএসএফের ৩২টি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রও খোয়া যায়। এসএসএফের সদস্যরা জীবন বাঁচাতে ওই অস্ত্রগুলো সেখানে ফেলে দিয়ে দেওয়াল টপকে সেখান থেকে চলে যায়। খোয়া যাওয়া এসএসএফের এসএমজি টি-৫৬, অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, ফ্ল্যাশ ব্যাং গ্রেনেড, অ্যান্টি ড্রোন গান, অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম ও বেতার যোগাযোগের ডিভাইসও ছিল। এসব অস্ত্র ভোটের দিন এবং ভোটের ফলাফল পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে রয়েছে।

নির্বাচনি বেস ক্যাম্প পরিদর্শনে বিজিবি মহাপরিচালক

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচনকালীন যেকোনো প্রকার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। গতকাল বুধবার রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিজিবির একাধিক নির্বাচনি বেস ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় বেস ক্যাম্পে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ নির্দেশনা।

বিজিবি মহাপরিচালক গতকাল সকালে রাজধানীর মুগদা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরা হজক্যাম্প এবং গাজীপুরের টঙ্গীতে স্থাপিত বিজিবির নির্বাচনি বেস ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং ক্যাম্পগুলোতে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। নির্বাচনকালীন যেকোনো নাশকতা, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করতে নির্দেশ দেন বিজিবি মহাপরিচালক।

ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত সবাই

আপনার ভোট অন্য কেউ দিলে কী করবেন

দুটি ব্যালটই নিতে হবে, সিল না দিলেও ফেলতে হবে বাক্সে

নারী-তরুণরাই হবেন ভোটের ‘গেম চেঞ্জার’

ভোটে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব ইস্যু

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে মিলবে যেসব সুফল

হাসিনার জালিয়াতির তিন নির্বাচন

৪৩ জেলায় ৭০০০ কিমি ঘুরে নির্বাচনি প্রচার জামায়াত আমিরের

১৯ দিনে তারেক রহমানের ৪৩ জনসভা